৫০০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ: এএফসি হেলথের মালিকরা লাপাত্তা
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: এএফসি হেলথ লিমিটেডের খেলাপি ঋণ ও মালিকদের অদৃশ্যতা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন সংকট তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, জনতা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক থেকে মোট ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিল। তবে ঋণ নেওয়ার ১১ বছর পার হলেও কোনো টাকা ফেরত দেয়নি। এর ফলে ব্যাংকগুলো এখন বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখে।
এএফসি হেলথের মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে ফোনে বা অন্য কোনো মাধ্যমে যোগাযোগে আসছেন না। ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যেই ঋণ আদায়ের জন্য বিভিন্ন মামলা করেছেন। ২০২৩ সালে ছয় পরিচালকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন ঢাকার অর্থঋণ আদালত। এএফসি হেলথের ঋণ নেওয়া অর্থ হাসপাতাল স্থাপন ও পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হয়নি; বরং তা ভিন্ন খাতে ব্যবহার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে দেখা গেছে, ঋণের বিপরীতে প্রদত্ত বন্ধকি সম্পত্তির মূল্য ৪৫ থেকে ৬০ কোটি টাকা হলেও আদৌ এসব সম্পত্তি আছে কি না তা নিশ্চিত নয়। এছাড়া, আইপিওর অনুমোদন নেওয়ার সময় ভারতের ফর্টিস এসকর্টস হার্ট ইনস্টিটিউটকে মিথ্যা তথ্য দেয় প্রতিষ্ঠানটি, ফলে বিএসইসি তাদের আইপিও স্থগিত করেছে।
এএফসি হেলথের মালিকরা অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেও বিপুল ঋণ নিয়েছেন। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, মালিকরা প্রায়ই ফোনও ধরেন না। ব্যাংক এবং আদালতের নথি অনুযায়ী, ঋণ আদায়ে বর্তমানে চেক ডিজঅনার মামলা এবং অর্থঋণ মামলা চলছে।
অতএব, এএফসি হেলথের খেলাপি ঋণ ও মালিকদের অদৃশ্যতা শুধু ব্যাংকগুলোর জন্য নয়, দেশের আর্থিক সেক্টরের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
এমবি/এসআর

