ঝুঁকিতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতু, বালুর বস্তায় ঠেকিয়ে চলছে যান চলাচল

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজার এলাকায় অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Oct 27, 2025 - 13:59
 0  2
ঝুঁকিতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতু, বালুর বস্তায় ঠেকিয়ে চলছে যান চলাচল

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজার এলাকায় অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেতুর নিচের তিনটি গার্ডারের মধ্যে দুটি গার্ডারে ফাটল দেখা দিয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলে সেতুটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সেতুটি ধ্বংস হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এতে বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠিসহ দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সংযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিদিন শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ ও মোটরসাইকেল সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে। ফাটল ধরা গার্ডার ও অস্থায়ী বালুর বস্তার উপর নির্ভর করে চলা এই যান চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ইতিমধ্যে সেতুর দুই প্রান্তে গতিরোধক স্থাপন করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ সেতু হিসেবে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে।

স্থানীয় ভ্যানচালক ছালাম সরদার বলেন, “দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই সেতুটি নির্মিত হয়েছিল। এরপর আর কোনো সংস্কার হয়নি। এখন সেতুর নিচের মাটি সরে গেছে, পাশে বড় গর্ত রয়েছে। ছোট গাড়ি গেলেও সেতু নড়ে ওঠে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মামুন খান বলেন, “পদ্মা সেতু চালুর পর ভারী যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। সেতুটি যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচ দিন আগে সেতু পরিদর্শন করেছেন বিভাগের কর্মকর্তারা। পরদিনই অন্তত ৪০ জন শ্রমিক নিয়ে জরুরি সংস্কারকাজ শুরু হয়। গার্ডারের নিচে বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ীভাবে সেতুটি সচল রাখা হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী শাহীন খান বলেন, “সেতুর দুই পাশের মাটি নদীর স্রোতে ক্ষয় হয়ে গেছে। গার্ডারের তিনটি স্থানে বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় সমস্যাটি জটিল হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলে স্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু হবে।”

এমবি/টিআই