স্কুল প্রতিষ্ঠার নামে কৃষকের জমি দখল ও ১৭৫টি গাছ কাটার অভিযোগ
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় স্কুল প্রতিষ্ঠার নামে স্থানীয় কৃষকের ২০ শতাংশ পৈতৃক জমি দখল এবং প্রায় ১৭৫টি বনায়নকৃত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় স্কুল প্রতিষ্ঠার নামে স্থানীয় কৃষকের ২০ শতাংশ পৈতৃক জমি দখল এবং প্রায় ১৭৫টি বনায়নকৃত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর থেকে হুমকি ও ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ভুক্তভোগী কৃষক হাবিবুর রহমান।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ অক্টোবর উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের কয়লা ব্যবসায়ী মো. শাহনেওয়াজ শাহীন ও তার সহযোগীরা স্কুল প্রতিষ্ঠার নামে হাবিবুর রহমানের জমি দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। কৃষক রাজি না হওয়ায় ৯ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ২৫টি গাছ কেটে ফেলে, পরে ২৫ অক্টোবর আরও ১৬০টি গাছ কেটে নেয়া হয়। এ সময় ভেকু দিয়ে জমির মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের কাজও শুরু হয়।
অভিযোগ করার পর জীবননাশের হুমকি পেয়ে হাবিবুর রহমান পরিবার নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে আছেন।
ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান বলেন, “আমার ২০ শতাংশ পৈতৃক জমি জোর করে নিতে চায় শাহীন ও তার সমর্থকরা। থানায় অভিযোগ করার পরও তারা হুমকি অব্যাহত রেখেছে। এখন জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।”
তার আত্মীয় মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “স্কুল প্রতিষ্ঠার কথা বললেও উদ্দেশ্য ভিন্ন। খাসজমি দখল করে হাবিবুরের জমি ব্যবহার করে মাছের প্রজেক্ট করার পরিকল্পনা তাদের।” তিনি আরও জানান, ওই এলাকায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে—কামিল মাদ্রাসা, সাইচাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও চান্দপুর হাইস্কুল—তাই নতুন স্কুলের প্রয়োজনীয়তাও প্রশ্নবিদ্ধ।
তবে স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, গ্রামবাসী যৌথভাবে স্কুল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। হাবিবুর রহমানের জমির বিনিময়ে আরও ১৭ শতাংশ জমি দেয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং বিষয়টি নিয়ে ৩০ অক্টোবর থানায় বৈঠক হবে।
অভিযুক্ত শাহ নেওয়াজ শাহীন বলেন, “আমরা সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে স্কুল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। অভিযোগকারী হাবিবুরের সঙ্গে আলোচনা করেই জমির দাম নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছে। ভুল বোঝাবুঝির কারণে অভিযোগ করা হয়েছে, সমাধান হয়ে যাবে।”
দেবিদ্বার থানার ওসি শামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। উভয়পক্ষকে আগামী শুক্রবার থানায় ডাকা হয়েছে। সমাধান না হলে তদন্তের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম জানান, “গাছ কাটার ঘটনা তদন্তে এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এমবি এইচআর

