বিজয় দিবসের আগের রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরে আগুন

শরীয়তপুর সদর উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিজয় দিবসের আগের রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Dec 16, 2025 - 13:45
 0  4
বিজয় দিবসের আগের রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরে আগুন
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

শরীয়তপুর সদর উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিজয় দিবসের আগের রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা কবরের ওপর কাঠ রেখে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারীয়া ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. মান্নান খান ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। তিনি ২০১০ সালের ৮ জানুয়ারি মারা যান। পরিবারের বসতঘরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. মান্নানের স্ত্রী মাহফুজা বেগম প্রতিদিনের মতো আজ সকালে স্বামীর কবর জিয়ারত করতে গিয়ে কবরের ওপর আগুন দেওয়ার চিহ্ন দেখতে পান। তাঁর চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা সেখানে ছুটে আসেন। কবরের একাংশে ছাই পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং তখনও ছাই থেকে হালকা ধোঁয়া বের হচ্ছিল।

আ. মান্নানের মেয়ে আফরোজা আক্তার জানান, বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘কারা কী উদ্দেশ্যে এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে, তা বুঝতে পারছি না। আমরা পুরো পরিবার মর্মাহত ও শঙ্কিত।’

শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর অবমাননার বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান শেষে তিনি ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়ার কথা বলেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কবরের পাশে স্বজনদের ভিড় এবং কান্নার রোল। চোখের পানি মুছতে মুছতে মাহফুজা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার কবরের সঙ্গে এমন অবমাননা মেনে নিতে পারছি না। বিজয় দিবসের দিনে আমাদের পরিবার শোকে ভেঙে পড়েছে।’

শরীয়তপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক আবদুল আজিজ সিকদার বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরে আগুন দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মুক্তিযোদ্ধারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ঘটনাটি তিনি অবগত নন। পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমবি এইচআর