‘গরিবের বন্ধু’র ভাবমূর্তি ঘিরে প্রশ্ন: ইউরোপে ড. ইউনূস–সম্পর্কিত আর্থিক লেনদেন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বজুড়ে ‘গরিবের ব্যাংকার’ হিসেবে পরিচিত হলেও তাঁর ইউরোপভিত্তিক কিছু আর্থিক কার্যক্রম ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে গুরুতর প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে এসেছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বজুড়ে ‘গরিবের ব্যাংকার’ হিসেবে পরিচিত হলেও তাঁর ইউরোপভিত্তিক কিছু আর্থিক কার্যক্রম ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে গুরুতর প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে এসেছে। ফাঁস হওয়া ৪২ পৃষ্ঠার একটি গোপন আইনি নথির বরাতে ইউরোপজুড়ে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, তহবিল ও বিনিয়োগ কাঠামোর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, যা নিয়ে দেশ-বিদেশে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নথিপত্র অনুযায়ী, লুক্সেমবার্গে নিবন্ধিত ‘গ্রামীণ ক্রেডিট এগ্রিকোল মাইক্রোফাইন্যান্স ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে ড. ইউনূসের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত এই দেশে প্রতিষ্ঠিত তহবিলটির মোট আকার প্রায় ৫ কোটি ইউরো হলেও, সংশ্লিষ্ট একটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ছিল নামমাত্র। এত কম বিনিয়োগের বিপরীতে তহবিল ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।
আরও অভিযোগ উঠেছে ফ্রান্সে নিবন্ধিত ‘ইউনূস স্পোর্টস হাব’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কাঠামো নিয়ে। নথিতে দাবি করা হয়েছে, এটি একটি বাণিজ্যিক কোম্পানি এবং এর একটি বড় অংশের শেয়ার বাংলাদেশের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে। বিদ্যমান মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, এ ধরনের বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হলেও সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ্যে নেই। ফলে অর্থ স্থানান্তরের পদ্ধতি এবং আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়া ফ্রান্স ও জার্মানিতে ড. ইউনূস–সম্পর্কিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ‘সোশ্যাল বিজনেস’-এর ধারণার বাইরে গিয়ে মূলত ব্যবসায়িক পরামর্শক বা কনসালটেন্সি কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। নথিপত্রে এসব প্রতিষ্ঠানকে ইউরোপীয় করপোরেট কাঠামোর আওতায় নিবন্ধিত লাভজনক সত্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, প্যারিসভিত্তিক একটি বড় তহবিল ব্যবস্থাপনা সংস্থা থেকে ড. ইউনূসের পদত্যাগের সিদ্ধান্তকেও সাম্প্রতিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন কেউ কেউ। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান বিতর্ক ও সম্ভাব্য আইনি জটিলতার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
অভিযোগ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও ব্যাখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসেনি। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের তদন্ত জরুরি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় নথি প্রকাশের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এমবি এইচআর

