এএসপির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ: অনুসন্ধানে জেলা পুলিশ

নওগাঁর সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শ্যামলী রানী বর্মণের বিরুদ্ধে এক বাসচালককে কার্যালয়ে ডেকে এনে নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে নেমেছে জেলা পুলিশ।

Jan 7, 2026 - 18:24
 0  2
এএসপির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ: অনুসন্ধানে জেলা পুলিশ
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শ্যামলী রানী বর্মণের বিরুদ্ধে এক বাসচালককে কার্যালয়ে ডেকে এনে নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে নেমেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম)-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৪ জানুয়ারি নওগাঁ জেলার সাপাহার সার্কেলের এক সহকারী পুলিশ সুপার ও একজন বাসচালকের মধ্যে সংঘটিত একটি অপ্রীতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সংবাদ ৬ জানুয়ারি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বিষয়টি পুলিশ সুপারের নজরে আসার পরপরই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হিমাচল পরিবহনের চালক বাদল ও সুপারভাইজার সিয়ামের অভিযোগ অনুযায়ী, ৪ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাপাহার থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে একটি যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে যায়। ওই বাসে যাত্রী হিসেবে ওঠেন সাপাহার সার্কেলের এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণের স্বামী ও কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মণ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি টিকিট না কেটেই ধানসুরা এলাকায় নামতে চান।

বাসটি দিঘার মোড়ে পৌঁছালে যে সিটে জয়ন্ত বর্মণ বসেছিলেন, সেই সিটের নির্ধারিত যাত্রী বাসে ওঠেন। তখন সিট ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং নিজেকে সার্কেল এএসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে সুপারভাইজারকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে চালকের সঙ্গেও তার তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। পরে তিনি ধানসুরা এলাকায় নেমে যান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একই দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাসটি সাপাহারে ফিরে এলে চালক বাদলকে বাসস্ট্যান্ড থেকে সার্কেল অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণ ও তার স্বামী মিলে তাকে শারীরিকভাবে মারধর করেন। পরে আহত অবস্থায় চালক বাদল রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মণ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার দাবি, বাসে তার স্বামীর সঙ্গে চালক ও সুপারভাইজার দুর্ব্যবহার করেছিলেন। সে কারণেই রাতে তাদের অফিসে ডাকা হয়। সেখানে তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করেন এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার ভাষ্যমতে, ঘটনাটি মূলত একটি ভুল বোঝাবুঝির ফল।

এমবি এইচআর