কোথায় আছেন? কেমন আছেন তারা?

নিজস্ব প্রতিবেদক: হঠাৎ করে নায়িকাদের গাঢাকা দেওয়ার খবর নতুন কিছু নয়। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা অবস্থায় অন্তর্ধানে চলে গিয়েছিলেন ভারতের সুচিত্র সেন। ক্যামেরা তো দূরে থাক, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের সামনেও আসেননি। দীর্ঘ ক্যারিয়ার ঢালিউডের শাবানার।
একইভাবে ববিতাও দূরে চলে গেলেন। শাবানা-ববিতার পরের ধাপেই আছেন শাবনূর-মৌসুমী। দুজনই নায়িকার ক্যারিয়ার হারিয়েছেন। শাবানা-ববিতারা রোল বদলে তাদের চাহিদা অক্ষুণ্ন রাখলেও শাবনূর তা করেননি।
গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে পর্দা কাঁপিয়েছেন শাবনূর-মৌসুমী। একের পর এক হিট-সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছেন। বিশেষ করে শাবনূর-সালমান শাহ, মৌসুমী-ওমর সানি জুটি মানেই প্রযোজকের বৃহস্পতি তুঙ্গে। সেই শাবনূরের সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া ছবি ২০১৩ সালে। এক যুগ আগের ছবিটি মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘কিছু আশা কিছু ভালোবাসা’।
একই ছবিতে তাঁর সঙ্গে আছেন মৌসুমীও। এই ছবির পরই শাবনূর অস্ট্রেলিয়ায় থিতু হয়েছেন। মাঝেমধ্যে বাংলাদেশে আসেন। মাঝখানে ‘রঙ্গনা’ নামের একটি ছবির শুটিং করলেও সেই ছবি আলোর মুখ দেখবে কি না সন্দেহ!
প্রায় দুই বছর ধরে আমেরিকায় আছেন মৌসুমী। সেখানেই দুই-একটা নাটক-টেলিছবি করেন। তবে সেগুলো বড় কোনো ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পায় না। আসে না আলোচনায়ও।
শাবনূর-মৌসুমীর পরে নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে পর্দায় এসেছিলেন সাদিকা পারভীন পপি। বহু হিট ছবির অভিনেত্রী অনেক দিন ধরেই আছেন আড়ালে। বিয়ে করে স্বামী-সংসার নিয়ে বিন্দাস আছেন। সিনেমা নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি নাকি বিনয়ের সঙ্গে এড়িয়ে যান!
দুই হাজার সাল-পরবর্তী জামানায় বেশ কয়েকজন অভিনেত্রীর আগমন ঘটে ঢালিউডে। অপু বিশ্বাস, সাহারা, রেসি, নিপুণরা জায়গাও করে নেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে সফল হয়েছিলেন অপু বিশ্বাস। শাকিব খানের সঙ্গে জুটি গড়ে উপহার দিয়েছেন বহু হিট ছবি। পরে শাকিবের সন্তানের মা হয়েছেন। সেই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই হারিয়েছেন জৌলুস। এখন টিকে থাকার চেষ্টা করছেন বিভিন্ন টক শো, শো-রুম উদ্বোধন, আর স্টেজ শো করে। বছর দুয়েক আগে নিজে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খুলে সরকারি অনুদানে একটি ছবিও নির্মাণ করেন। এরপর আর নতুন খবর নেই।
অন্যদিকে সাহারা শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’, ‘খোদার পরে মা’, ‘বলব কথা বাসর ঘরে’র মতো বেশ কয়েকটি সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছিলেন। সেই সাহারাও ২০১৪ সালে ‘তোকে ভালোবাসতেই হবে’র পর আর কোনো ছবি করেননি। এমনকি শোবিজের কারো সঙ্গে যোগাযোগও করেন না। এক সপ্তাহ আগে সাহারার সঙ্গে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। তখন তিনি বলেন, ‘এখন বছরে দশ-বিশটা ছবি হয়। সব ছবিই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে, আমি চাইলেও তো করতে পারব না।’
প্রায় চার বছর ধরে আমেরিকায় স্বামী-সন্তানসহ বসবাস করছেন মৃদুলা আহমেদ রেসি। অভিনয়ে আর ফিরবেন না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রেসি বলেন, ‘ডিপজল ভাইয়ের সঙ্গে আমার ছবি হয়েছে বেশি। তিনি চলচ্চিত্র থেকে একটু দূরে আছেন। আমার সঙ্গে জুটি হওয়ার মতো নায়কই তো নেই!’
আওয়ামী সরকার পতনের পর থেকে আড়ালে নিপুণ আক্তার। তিনি কয়েকটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ থাকলেও ছবিগুলো অনিশ্চয়তায় পড়েছে। নিপুণের সঙ্গে যোগাযোগ করাটাও সম্ভব হয়নি।
এই শতাব্দীর শুরুর দিকে বেশ কয়েকজন নায়িকাকে ব্রেক দিয়েছিল জাজ মাল্টিমিডিয়া। তাঁদের অনত্যম মাহিয়া মাহি, সারা জেরিন, ফাল্গুনি আক্তার জলি, নুসরাত ফারিয়া, পুজা চেরী, বিপাশা কবির। এই তালিকার দুজন [ফারিয়া ও পূজা] দর্শক চাহিদায় আছেন। বাকিদের কেউই এখন নতুন কোনো ছবি করছেন না। কিছু দিন আগেই মাহিয়া মাহি গেছেন আমেরিকায়, সেখানেই নাকি স্থায়ী হবেন। সারা জেরিন স্বামী-সংসার নিয়ে ব্যস্ত। জলিও মাঝেমধ্যে খবর দেন পর্দায় ফিরবেন, সেটা খবরই থেকে যায়। প্রবাসীকে বিয়ে করে আমেরিকায় স্থায়ী হয়েছেন বিপাশা কবির। গত সপ্তাহে বিপাশা জানালেন, ‘আপাতত দেশে ফেরার ইচ্ছা নেই।’
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে নীরবেই আছেন নুসরাত ফারিয়া। রোজার ঈদে অবশ্য ‘জ্বিন-৩’ মুক্তি পেয়েছিল তাঁর। কোরবানির ঈদে ‘টগর’ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন পূজা চেরী। তবে সফল হতে পারেননি। এরপর গত দুই-তিন মাস অনেকটা আড়ালেই আছেন। ফোনেও পাওয়া যায় না তাঁকে।
জাজ মাল্টিমিডিয়ার বাইরেও নাম করেছেন বেশ কয়েকজন—আঁচল, আইরিন সুলতানা, জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীসহ কয়েকজন। শাকিব-শুভর সঙ্গে সফল হয়েছিলেন আঁচল। সেই আঁচল অনেক আগেই ছিটকে গেছেন বড় পর্দা থেকে। বিয়ে করেছেন গায়ক সৈয়দ অমিকে। স্বামীর গানে মডেল হচ্ছেন নিয়মিত। রিলস-টিকটকেও সরব। অভিনয় ছেড়ে চাকরিতে ঢুকেছিলেন আইরিন। আর ফেরেননি। সম্ভাবনাময় আরেক মুখ ঐশী। আরিফিন শুভর সঙ্গে আলোচিত কিছু ছবিতে জুটি বেঁধেছেন। মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘নূর’। ‘যাত্রী’ নামের একটি ছবিও হাতে নিয়েছেন গত বছর। তবে প্রচারের আলো থেকে এখন অনেকটাই দূরে আছেন এই অভিনেত্রী।
এমবি/এসআর