চাঁদাবাজির মহোৎসব: এক ওসি নিয়োগেই রাফি নিয়েছিলো ৩০ লাখ টাকা
চট্টগ্রামের এক থানার ওসিকে নিয়োগ দিয়ে কিছুদিন আগে সমন্বয়ক রাফি (খান তালাত মাহমুদ রাফি) একাই নিয়েছিলো ৩০ লাখ টাকা। এ সংক্রান্ত অভিযোগ করে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে স্ট্যাটাস দেন চট্টগ্রামের এক আইনজীবি কামাল ফারাবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের এক থানার ওসিকে নিয়োগ দিয়ে কিছুদিন আগে সমন্বয়ক রাফি (খান তালাত মাহমুদ রাফি) একাই নিয়েছিলো ৩০ লাখ টাকা।
এ সংক্রান্ত অভিযোগ করে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে স্ট্যাটাস দেন চট্টগ্রামের এক আইনজীবি কামাল ফারাবি।
তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, “চট্টগ্রামের এক থানার ওসি নিয়োগেই কিছুদিন আগে এক রাফিই নিয়োছিলো ৩০ লাখ টাকা।
সর্বপ্রথম আমি এই ইনফরমেশন জানাইলে তখন বৈবিছাআ পদধারী নেতারা আমাকে ইচ্ছেমতো গালি দেয়। আফ্রিকান কালারের এই সমন্বয়কের দু একটা আমলনামা আপনাদের তাহলে বলি।
সিএনএফের সভাপতি আংকেল একবার বলেছিলো বন্দরে রাফির ফোন ছাড়া কাজেই চলেনা।
বন্দরের সবচে ব্যস্ততম ৫,৬ নং জেটির নিয়ন্ত্রণ এই নিগ্রো ভাইয়ের হাতে।
রাফি তার গায়েবি ক্ষমতার জোরে সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদের শিপ সহ আটকে দিছিলো।
২০২৪ সনের আগষ্ট মাসেই কেবল রাফি বন্দর থেকে চাঁদা, লগইন, তদবির, করে হাতিয়ে নিয়েছিলো ৩৫ কোটি টাকার উপরে।
চট্টগ্রাম বাণিজ্যমেলার স্টল বসাইতে হলে রাফির পারমিশন ছাড়া বসানো যা-য়না সেটাতো কল রেকর্ডে শুনলেন।চট্টগ্রামের প্রায় সব প্রাইভেটে মেডিক্যাল আর বড় বড় শপিং মলের সভাপতিদের মবের ভয় দেখিয়ে রাফি প্রতিমাসে চাঁদা নেয়।যেসব টাকা ঢুকে তার বউয়ের একাউন্টে।
সর্বশেষ রাফি আর তার বউ সুইজারল্যান্ডের ভিসা রিজেক্ট করেছিলো সেই কথাটিও আপনাদের বলে রাখলাম।মজার কথা হলো তার সুইজারল্যান্ড যাওয়ার ভিসার কাজগুলো করেছিলো চট্টগ্রামের এক ছাত্রলীগ নেতার ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে।
কিছু জুলাইয়ের যোদ্ধা রাফির চাঁদাবাজি নিয়ে বলা শুরু করেছে ধন্যবাদ তাদের।জুলাইকে আমরা জীবিত রাখবো যেভাবে হোক।চাঁদাবাজদের ঠিকানা এই জুলাইয়ে রাখবোনা স্লোগান আবার হোক।”
বলা বাহুল্য যে, কয়েকদিন যাবৎ জুলাই গণঅভ্যূত্থানে অংশ নেয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা চাঁদাবাজির সাথে ওতোপ্রতো ভাবে জড়িয়ে পড়েছেন বলে গুঞ্জন চলছে।
ঢাকার গুলশানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা সাবেক এমপির বাসভবন থেকে চাঁদা নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা খাওয়ার পর এ বিষয়ে আলোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে সাধারণ জনগনের মাঝে।
কেউ কেউ বলছেন, গুলশানের চাঁদাবাজ সমন্বয়ক আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান এবং চট্টগ্রামের খান তালাত মাহমুদ রাফি একই সিন্ডিকেটের লোক, তাদের কাজই হলো সাবেক আওয়ামী নেতা বড় বড় ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে বিপুল পরিমান চাঁদা আদায় করা।
সাধারণ জনগন এবং আহত পরিবাররা বলছে, ছাত্র সমন্বয়করা আমাদের রক্তের সাথে বেঈমানি করছে। তারা বলছে, সমন্বয়কদের মূল সংস্কার এখন চাঁদাবাজিতে পরিণত হয়েছে।
এমবি/এইচআর