ক্যারিবিয়ান সাগরে বৃহত্তম মার্কিন রণতরী, ‘যুদ্ধাবস্থা তৈরির’ অভিযোগ ভেনেজুয়েলার
ক্যারিবিয়ান সাগরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রণতরী ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বানোয়াট ‘যুদ্ধাবস্থা তৈরির’ অভিযোগ তুলেছেন।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
ক্যারিবিয়ান সাগরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রণতরী ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বানোয়াট ‘যুদ্ধাবস্থা তৈরির’ অভিযোগ তুলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, রণতরীটি সর্বোচ্চ ৯০টি যুদ্ধবিমান বহন করতে সক্ষম এবং এটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের অধীনে থাকবে, যার আওতায় রয়েছে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চল।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, এই সামরিক মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য হলো মাদক পাচারকারীদের দমন করা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি আসলে ভেনেজুয়েলার সরকারকে চাপে রাখার কৌশল।
হেগসেথ জানিয়েছেন, শুক্রবার ক্যারিবিয়ান সাগরে একটি নৌযানে বিমান হামলা চালিয়ে ছয়জন ‘মাদক-সন্ত্রাসী’কে হত্যা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’ নামের একটি অপরাধচক্রের নৌযান।
এই হামলার পর লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা এর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও কৃত্রিম যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করছে। তিনি মন্তব্য করেন, “তারা একসময় যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেছিল, কিন্তু এখন সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতা ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী ও মাদুরোর ঘনিষ্ঠদের মধ্যে ভয় সঞ্চার করে সরকারবিরোধী অবস্থান তৈরির একটি কৌশল।
চ্যাথাম হাউজের ল্যাটিন আমেরিকা বিশ্লেষক ড. ক্রিস্টোফার সাবাতিনি বলেন, “ওয়াশিংটন মূলত ভয় দেখিয়ে ভেনেজুয়েলার সামরিক নেতৃত্বকে মাদুরোর বিপক্ষে আনতে চাইছে।”
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে একাধিক নৌকা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব হামলাকে মাদকবিরোধী অভিযান বলে দাবি করেছেন, তবে কংগ্রেসের সদস্যরা এসব হামলার সংবিধানগত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ওদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এসব হামলার নির্দেশ দেওয়ার আইনি ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। অপরদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, “যদি কেউ যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাঠানো বন্ধ করে, তাহলে আমরা তাদের নৌকা উড়িয়ে দেওয়া বন্ধ করব।”
যুক্তরাষ্ট্রের এসব অভিযানে এ পর্যন্ত ৪৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এমবি এইচআর

