বিশ্বরাজনীতিতে যেসব ক্ষমতাচ্যুত নেতার হয়েছে মৃত্যুদণ্ড

Nov 17, 2025 - 18:13
 0  3
বিশ্বরাজনীতিতে যেসব ক্ষমতাচ্যুত নেতার হয়েছে মৃত্যুদণ্ড

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: ইতিহাসজুড়ে ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপ্রধানদের বিচার ও মৃত্যুদণ্ড রাজনৈতিক অস্থিরতার অন্যতম নাটকীয় অধ্যায়। বিপ্লব, গৃহযুদ্ধ, অভ্যুত্থান কিংবা গণহত্যার বিচারের পর বহু নেতা আদালতের রায়ে বা বিচারবহির্ভূতভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। আধুনিক ইতিহাসে এমন নজির রয়েছে বহুবার।

নিকোলায় চাউশেস্কু (রুমানিয়া)

রুমানিয়ার একনায়ক নিকোলায় চাউশেস্কু ২৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ১৯৮৯ সালে পতন ঘটলে একটি দ্রুত সামরিক ট্রাইব্যুনাল তাকে গণহত্যা ও অর্থনৈতিক ধ্বংসের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। বড়দিনের দিনই তার ও তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এটি আধুনিক রুমানিয়ার সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড।

জুলফিকার আলী ভুট্টো (পাকিস্তান)

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোকে ১৯৭৭ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। পরবর্তীতে একটি বিতর্কিত হত্যা মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৯৭৯ সালে ফাঁসি দেওয়া হয়।
২০২৪ সালে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তার বিচারে গুরুতর ত্রুটি ছিল বলে রায় দিয়ে মরণোত্তর পুনর্বাসন ঘোষণা করে।

সাদ্দাম হোসেন (ইরাক)

ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের পর মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। দুজাইল গণহত্যার মামলায় ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এটি আধুনিক যুগের অন্যতম আলোচিত বিচার।

মুয়াম্মার গাদ্দাফি (লিবিয়া)

৪২ বছরের শাসক গাদ্দাফি ২০১১ সালের বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আটকাভিযানে নিহত হন। যদিও আদালতের রায় ছিল না, তাকে হেফাজতে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যা করা হয়—যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করে।

মেংগিস্তু হাইলি মারিয়াম (ইথিওপিয়া)

ইথিওপিয়ার দার্গ শাসনের নেতা মেংগিস্তু ‘রেড টেরর’-এর গণহত্যার দায়ে অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড পান। তবে তিনি এখনো জিম্বাবুয়েতে নির্বাসনে আছেন এবং প্রত্যর্পণ করা হয়নি।

চুন দু-হোয়ান (দক্ষিণ কোরিয়া)

দক্ষিণ কোরিয়ায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর সামরিক শাসকদের বিচার হয়। গওয়াংজু গণহত্যার দায়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট চুন দু-হোয়ানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তা মওকুফ করা হয় এবং পরে তিনি ক্ষমা পান।

জোসেফ কাবিলা (ডিআর কঙ্গো)

২০০১–২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট থাকা জোসেফ কাবিলাকে ২০২৫ সালে সামরিক আদালত রাষ্ট্রদ্রোহ, বিদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ভূরাজনৈতিক বিচারগুলোর একটি। যদিও তিনি এখনো গ্রেপ্তার হননি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ফরাসি বিপ্লব, ইংল্যান্ডের গৃহযুদ্ধ, আফ্রিকার একনায়কতন্ত্রের পতন কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত—ইতিহাসে ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপ্রধানদের মৃত্যুদণ্ড নতুন কিছু নয়। তবে বিচারপ্রক্রিয়া দেশভেদে ব্যাপকভাবে ভিন্ন হয়।
কখনো চাউশেস্কুর মতো দ্রুত বিচার সমালোচিত হয়েছে, কখনো কাবিলার মতো দীর্ঘ বিচার আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে।

মোটকথা, এসব মৃত্যুদণ্ড কেবল একজন নেতার পতনই নয়—প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি যুগের অবসান এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনাকে নির্দেশ করে।

এমবি/এসআর