৫৪ বছর পর চাঁদের পথে আবার মানুষ, আর্টেমিস-২ অভিযানে প্রস্তুত নাসা

মানবজাতি আবার চাঁদের কক্ষপথে পা রাখার অপেক্ষায়। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে চাঁদের পথে কোনো মানুষ যায়নি। সেই দীর্ঘ বিরতি ভাঙতে যাচ্ছে নাসা। আর্টেমিস–২ মিশনের মাধ্যমে ফের মানুষ পাঠানো হবে চাঁদের কক্ষপথে।

Jan 14, 2026 - 12:42
 0  3
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে আবার মানুষ, আর্টেমিস-২ অভিযানে প্রস্তুত নাসা
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

মানবজাতি আবার চাঁদের কক্ষপথে পা রাখার অপেক্ষায়। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে চাঁদের পথে কোনো মানুষ যায়নি। সেই দীর্ঘ বিরতি ভাঙতে যাচ্ছে নাসা। আর্টেমিস–২ মিশনের মাধ্যমে ফের মানুষ পাঠানো হবে চাঁদের কক্ষপথে। আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হতে যাওয়া ১০ দিনের এই অভিযানে চারজন নভোচারী চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবেন এবং নতুন ইতিহাস গড়বেন।

এই অভিযানে অংশ নেবেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডার নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। তারা চাঁদের কাছ দিয়ে প্রায় ৯ হাজার ২৬০ কিলোমিটার (৫ হাজার ৭৫০ মাইল) দূরত্ব অতিক্রম করবেন।

মিশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১৭ জানুয়ারি উৎক্ষেপণের প্রথম ধাপ শুরু হচ্ছে। নাসার বিশাল স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেট ভেহিকেল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং (ভ্যাব) থেকে লঞ্চপ্যাডে নেওয়া হবে। এ কাজে ব্যবহৃত হবে বিশ্বের সবচেয়ে ভারী ক্রলার-ট্রান্সপোর্টার, যা প্রায় ১২ ঘণ্টায় ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটার (৪ দশমিক ২ মাইল) পথ অতিক্রম করবে।

এই ক্রলার-ট্রান্সপোর্টারটি প্রায় ৬০টি স্ট্যাচু অব লিবার্টি (প্লিন্থ ছাড়া) বা ৮০টি নীল তিমির সমান ওজন বহন করতে সক্ষম। এসএলএস রকেটটি আকারে অত্যন্ত বিশাল—এর উচ্চতা ৯৮ দশমিক ১ মিটার (৩২২ ফুট) এবং এতে রয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সলিড প্রোপেল্যান্ট বুস্টার। উৎক্ষেপণের আগে রকেট ও ওরিয়ন মহাকাশযানকে একাধিক পরীক্ষা ও রিহার্সালের মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

আর্টেমিস–২ মিশনে নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না; তারা চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করেই ফিরে আসবেন। এটি হবে আর্টেমিস কর্মসূচির প্রথম মানববাহী মিশন।

নাসা এই অভিযানের জন্য ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল—এই তিনটি সম্ভাব্য উৎক্ষেপণ সময় নির্ধারণ করেছে। আবহাওয়া, কারিগরি প্রস্তুতি ও অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে। এই মিশনের মাধ্যমে মহাকাশ অভিযানে মানবজাতির নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।

এমবি এইচআর