ফেসবুকে লাশবাহী স্পিডবোট চালুর খবর দিয়েছিলেন প্রবাসী, তাঁকে দিয়েই যাত্রা শুরু

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে লাশবাহী স্পিডবোট চালুর খবর শুনে নিজের ফেসবুকে স্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন প্রবাসী মোহাম্মদ আমীন।

Oct 19, 2025 - 16:32
 0  2
ফেসবুকে লাশবাহী স্পিডবোট চালুর খবর দিয়েছিলেন প্রবাসী, তাঁকে দিয়েই যাত্রা শুরু

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে লাশবাহী স্পিডবোট চালুর খবর শুনে নিজের ফেসবুকে স্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন প্রবাসী মোহাম্মদ আমীন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—মাত্র একদিন পর সেই স্পিডবোটেই দেশে ফিরল তাঁর লাশ।

গত ৮ অক্টোবর ওমানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সন্দ্বীপের সাত প্রবাসী, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আমীন। শনিবার রাতে তাঁদের লাশ সন্দ্বীপে পৌঁছায়, আর রবিবার সকালে জানাজা শেষে নিজ নিজ গ্রামে দাফন করা হয়।

প্রবাসী আমীন সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আলী কব্বরের ছেলে। দুর্ঘটনার মাত্র একদিন আগে তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন, “সন্দ্বীপে লাশবাহী স্পিডবোট চালু হচ্ছে—এটা বড়ই স্বস্তির খবর।” পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। ঘরে দুই মেয়ে ও এক ছেলে; বড় মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে শিগগিরই দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁর।

ওমানের ধুকুম প্রদেশে সিদরা এলাকায় তাঁদের বহনকারী গাড়ির সঙ্গে আরেকটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সাতজন। নিহত অন্যরা হলেন—মো. সাহাবুদ্দিন (২৮), মো. বাবলু (২৮), মো. রকি (২৭), মো. আরজু (২৬), মো. জুয়েল (২৮) ও মোশারফ হোসেন (২৬)। তাঁরা সবাই মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

নিহত সাহাবুদ্দিনের পরিবারে রয়েছেন তাঁর মা–বাবা, স্ত্রী ও চার মাসের এক সন্তান। মৃত্যুর আগে ফেসবুকে তিনি লিখেছিলেন, ‘মধ্যবিত্ত মানে হাজারটা স্বপ্ন, কিন্তু দিন শেষে ভাগ্যের খাতাটা শূন্য।’

স্থানীয়রা জানান, নিহত সাতজনের ছয়জনই দরিদ্র পরিবার থেকে আসা। তাঁদের বেশির ভাগেরই চার থেকে ছয় মাস বয়সী শিশু রয়েছে। এক সময় যে প্রবাসযাত্রা পরিবারের স্বপ্ন ছিল, তা আজ শোকের ভারে ডুবে গেছে সন্দ্বীপের গ্রামগুলোতে।

এমবি/টিআই