আগুনে পুড়ে ছাই শত কোটি টাকার পণ্য, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

Oct 20, 2025 - 10:22
 0  2
আগুনে পুড়ে ছাই শত কোটি টাকার পণ্য, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি:
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষুদ্র থেকে বড়—সব শ্রেণির ব্যবসায়ীর মাথায় হাত পড়েছে। আগুনে পুড়ে গেছে তৈরি পোশাক শিল্পের পণ্য, ওষুধের কাঁচামাল, আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মালামাল ও ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের পণ্য। কার্গো ভিলেজে রাখা এসব পণ্য এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই ছাড় হওয়ার কথা ছিল। সেই স্বপ্ন এখন ছাই।

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ আশঙ্কা করছে, অন্তত ২৫০টি কারখানার পণ্য এই আগুনে পুড়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এক রাতের আগুনেই কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে।

উত্তরার গার্মেন্ট পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘ফার্স্ট অ্যান্ড সেফ’-এর মালিক মো. বেনজির জানান, “হংকং ও চীন থেকে আনা শিপমেন্টের সব পণ্যই পুড়ে গেছে। আমি ছোট ব্যবসায়ী—লাখ পাঁচেক টাকার ক্ষতিও আমার জন্য বড়।”

অন্যদিকে জেমটেক্স লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি ইমরান আহমেদ বলেন, “ভারত থেকে আমদানি করা প্রায় ৪০ কেজি লেইচ (অ্যাক্সেসরিজ) পুড়ে গেছে, যার মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। এর ফলে এক লাখ ৬২ হাজার ডলারের রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে।”

বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, “উচ্চমূল্যের ও জরুরি শিপমেন্টের পণ্যই সাধারণত আকাশপথে আসে। আগুনে বহু কারখানার রপ্তানি ও আমদানি কার্যক্রম থমকে গেছে।” তিনি জানান, সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও কাস্টমসের সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হবে।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “রপ্তানি খাত সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত। কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। এটা পরিকল্পিত কি না, সরকারকে তা খতিয়ে দেখতে হবে।”

বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার জানান, তাদের সদস্যদের ১০০ কোটি টাকার বেশি পণ্য নষ্ট হয়েছে, যদিও বেশিরভাগ পণ্য বিমা কাভারে ছিল।

এদিকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন কার্গো ভিলেজ পরিদর্শন শেষে বলেন, “আমদানি করা সব পণ্য আগুনে ধ্বংস হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। নাশকতাসহ কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।”

অন্যদিকে এফবিসিসিআই ও ডিসিসিআই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, বিশেষ ব্যবস্থায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। আপাতত জিএসই মেনটেন্যান্স এলাকায় পণ্য সংরক্ষণ ও খালাসের কাজ চলছে।

এমবি/এসআর