সম্মান হারিয়েছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট; ভ্রমণে শুরু হয়েছে প্রাত্যহিক সন্দেহ ও হেনস্তা

Oct 21, 2025 - 13:19
 0  2
সম্মান হারিয়েছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট; ভ্রমণে শুরু হয়েছে প্রাত্যহিক সন্দেহ ও হেনস্তা

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: একটি ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে দেশের বর্তমান কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তানভীর মিশুক। তিনি লেখেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি পাসপোর্ট, পরিচয় ও ভবিষ্যৎ বদলে নিতে পারতেন—কিন্তু দেশের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ‘শিকড়’ ছুঁড়ে ফেলার কথা কখনো ভাবেননি। তবু গত এক বছরে বিদেশে যাত্রার সময় তার অভিজ্ঞতা বলে দিয়েছে—বাংলাদেশি পাসপোর্ট এখন সম্মান হারিয়েছে এবং ভ্রমণে শুরু হয়েছে প্রাত্যহিক সন্দেহ ও হেনস্তা।

পোস্টে তানভীর উল্লেখ করেছেন, ২০০৬ সালে তিনি প্রথমবার সিঙ্গাপুরে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস পাওয়া শুরু করেন এবং পরবর্তীতে আরও ছয়টি দেশের পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি পেয়েছেন। ২০১১ সালে পাসপোর্ট নেওয়ার সুযোগও এসেছিল, কিন্তু বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ছাড়তে তিনি রাজি হননি। ব্যবসায়িক সুবিধা হিসেবে বিভিন্ন দেশের পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস যথেষ্ট ছিল তাঁর কাছে; তবু হৃদয় সবসময় বাংলাদেশেই থেকেছে—লিখেছেন তিনি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি ইমিগ্রেশনে পাওয়া আচরণ, সন্দেহভাজন প্রশ্ন ও কখনো কখনো অপমান মিশুককে মানসিকভাবে আঘাত করেছে—পোস্টে বলা আছে। লন্ডনে এক কিশোর বিক্রেতার ভাষ্য দিয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘আপনাদের দেশে কি এখন গৃহযুদ্ধ চলছে?’—এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েই বোঝা যায় আন্তর্জাতিক সক্রিয় পরিমন্ডলে বাংলাদেশের অবস্থানের ধাক্কা।

তানভীরের বক্তব্যে আরও এসেছে, বিশ্বের বহু দেশ এখন বাংলাদেশিদের ভিসা প্রদানে দেরি করছে বা কঠোরতা বাড়াচ্ছে; এমনকি শ্রীলঙ্কাসহ কিছু দেশ নাগরিকদের প্রবেশে বাধা দিয়েছে—যেখানে একসময় সংকটবিহীন ভ্রমণ ছিল। তিনি লিখেছেন, এক মাসে ১০৬ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নীচের দিকেই নামছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভ্রমণ ও শিক্ষা-বিনিময়ের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ব্যক্তিগত বিকল্প থাকা সত্ত্বেও মিশুক প্রশ্ন তুলেছেন—“আমরা কি আমাদের ভবিষ্যৎ ছিনিয়ে দেব, নাকি নিজেরাই বদল আনব?” তিনি নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ব আর নেতৃত্ব আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা ও পুনর্গঠনে আর বসে থাকার সময় নেই। তিনি লিখেছেন, কিছু অপরাধী, বিদেশি দালাল বা জঙ্গিদের জন্য আটকালেই ১৮ কোটি সহজ সরল মানুষের নাম কলঙ্কিত হবে—এ বিষয়টা সহ্য করা জায়েজ নয়।

পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র: অনেকে তাঁর বক্তব্যে সহমত প্রকাশ করছেন, অনেকেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার ওপর জোর রয়েছে। অন্যদিকে কয়েকটি মন্তব্যেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাস্তব কর্মপরিকল্পনার বা কুটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ দেখা যাচ্ছে।

তানভীর মিশুক নিজে ব্যক্তিগত উদাহরণ তুলে দেশের সম্মান ও নাগরিকত্বের প্রতি আবেগজনিত সংবেদনশীলতা দেখালেও পোস্টটি জাতীয় পর্যায়ে ভাবার একটি বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে—কীভাবে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা যাবে এবং এটি রক্ষায় নাগরিক, ব্যবসায়ী ও নেতৃত্বের দায়িত্ব কী হবে—এসবই মূল প্রশ্ন হিসাবে উঠে আসছে।

এমবি/এসআর