চাঁদপুর-শরীয়তপুর সেতু: জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে দ্রুত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা

Oct 23, 2025 - 16:30
 0  2
চাঁদপুর-শরীয়তপুর সেতু: জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে দ্রুত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা
চাঁদপুর-শরীয়তপুর সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্য নকশা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটিই হবে দেশের দীর্ঘতম তার আলম্বিত (ক্যাবল-স্টেইড) সেতু। ছবি : সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: মেঘনা নদীর ওপর প্রস্তাবিত চাঁদপুর-শরীয়তপুর সেতু দেশের দীর্ঘতম তার আলম্বিত (ক্যাবল-স্টেইড) সেতু হবে। প্রকল্পটিতে অর্থায়নে আগ্রহ দেখিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। অর্থায়ন নিশ্চিত হলে নির্মাণকাজে গতি আসার আশা করা হচ্ছে।

চাঁদপুর সদরের হরিণাঘাট থেকে শরীয়তপুরের সখীপুরের আলুর বাজার পর্যন্ত সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৮.৪ কিলোমিটার। তিনটি ধাপে নির্মিতব্য এই সেতুর মধ্যে থাকবে ১১০০ মিটার ক্যাবল-স্টেইড অংশ। নদীর নাব্যতা বজায় রাখতে মাঝখানে ৭০০ মিটার এবং দুই পাশে যথাক্রমে ৪০০ ও ৩০০ মিটার স্প্যান রাখা হবে। পানির স্তর থেকে সেতুর উচ্চতা হবে ৩০ মিটার।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী বলেন, সেতুটি বাংলাদেশের সেতু নির্মাণে একটি নতুন মাইলফলক হবে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে কম জমি অধিগ্রহণ ও কম ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, সরকারের লক্ষ্য দেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্কে টেকসই সংযোগ স্থাপন। নির্মিত হলে সেতুটি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। অর্থায়নের জন্য বন্ধু রাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ এবং জাপানের সহায়তা চলছে।

নির্মাণ হলে দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে দূরত্ব কমবে প্রায় ৭০ কিলোমিটার। চারটি বিভাগের ৩২ জেলার মধ্যে সরাসরি সড়কসংযোগ তৈরি হবে। এতে উপকৃত হবে প্রায় পাঁচ কোটি ৮৯ লাখ মানুষ। নৌ, সমুদ্র ও স্থলবন্দরের সঙ্গে পণ্য পরিবহনে দ্রুতগতি আসবে, সময় ও পরিবহন ব্যয় কমবে।

বর্তমানে চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথে ফেরি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভোগান্তিপূর্ণ। ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে সেতুর জন্য অপেক্ষা করছেন। সেতু নির্মিত হলে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি বৃদ্ধি পাবে।

সেতুটির নির্মাণকাজ ২০৩৩ সালের মধ্যে শেষ হবে। ইতিমধ্যেই প্রস্তুতিমূলক কাজ এবং অর্থায়ন সংক্রান্ত আলোচনার শেষ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।

এমবি/এসআর