গলাচিপায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের শত শত ঘরে তালা, থাকছেন না বরাদ্দপ্রাপ্তরা

পটুয়াখালীর গলাচিপায় সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত শত শত ঘর এখন তালাবদ্ধ। বরাদ্দ পাওয়া উপকারভোগীদের অনেকেই ঘরে থাকছেন না, কেউ কেউ আবার ঘর ভাড়া দিয়েছেন অন্যদের কাছে।

Oct 27, 2025 - 14:37
 0  2
গলাচিপায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের শত শত ঘরে তালা, থাকছেন না বরাদ্দপ্রাপ্তরা
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত শত শত ঘর এখন তালাবদ্ধ। বরাদ্দ পাওয়া উপকারভোগীদের অনেকেই ঘরে থাকছেন না, কেউ কেউ আবার ঘর ভাড়া দিয়েছেন অন্যদের কাছে। ফলে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো এই সরকারি উদ্যোগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, পাঁচ ধাপে মোট ১ হাজার ৪০৪টি আশ্রয়ণ ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ, রান্নাঘর, শৌচাগার, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ঘরেই এখন ধুলো জমেছে, বারান্দায় খড়ের স্তূপ, কোথাও আবার ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর অবস্থায় পড়ে আছে ঘরগুলো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে ভূমিহীন নন। কেউ কেউ শহরে ভাড়া বাসায় থাকেন, আবার কেউ নিজস্ব বাড়িঘরের মালিক হয়েও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নিয়েছেন। এমনকি কিছু ঘর স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় পকিয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বরাদ্দ পাওয়া অনেকেই ঘর বিক্রি করে দিয়েছেন। কেউ দুটি, কেউ একটি ঘর কিনে রেখে দিয়েছেন, কিন্তু কেউই সেখানে বসবাস করছেন না।

অভিযোগ উঠেছে, গলাচিপা উপজেলা প্রশাসনের রাজস্ব খাতের এক দপ্তরি বাসন্তী রানী তিন লাখ টাকায় একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর কিনেছেন, যদিও তিনি সেখানে কখনো বসবাস করেননি।

এ বিষয়ে বাসন্তী রানী জানান, ঘরটি নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য তার নিজের নয়, বরং আত্মীয়ের পরিচয়ে নাম ব্যবহার করা হয়েছিল।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খালি বা পরিত্যক্ত ঘরগুলো সামাজিক অপরাধের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় ভূমিহীনরা দাবি করেছেন, যারা ঘর পেয়ে সেখানে থাকছেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত অসহায় ও গৃহহীন পরিবারগুলোর মধ্যে নতুনভাবে ঘর বিতরণ করা হোক।

এমবি এইচআর