বকের সঙ্গে সখ্যতা হেমায়েতের, অসুস্থ হলেই খাওয়ান নাপা

Oct 27, 2025 - 18:20
 0  2
বকের সঙ্গে সখ্যতা হেমায়েতের, অসুস্থ হলেই খাওয়ান নাপা

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলের নুরাইনপুর বন্দরের ছোট্ট একটি স্টেশনারি দোকানের সামনে প্রায় চার বছর ধরে মানুষ-ভিড়ের মধ্যেই নিশ্চিন্তে দাঁড়িয়ে আছে এক ধবধবে সাদা বক। দোকান মালিক হেমায়েত উদ্দিনের যত্নে বকটি এখন গ্রামগঞ্জে পরিচিত মুখ; অসুস্থ হলে চিকিৎসা, পিপাসায় নাক দিয়ে পানি পড়লে নাপা খাইয়ে বাঁচানো হয়—সবই চলে তার নিজের প্রেমভরা চালচলনে।

লোকালয়ের মানুষরা বলছেন, মজিদ পাশের মাওলানার বাগানে বহু বছর ধরে থাকা বক পাখির সংরক্ষণশিবিরের কাছেই এই অবকাশ। একদিন ঝড়ো বাতাসে পুকুর থেকে বের হচ্ছিল বকের এক ছানা; হেমায়েত তা গুইসাপের থেকে উদ্ধার করে খাবার ও যত্ন দিলে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং তখন থেকেই তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বকটি কখনো দোকানের চেয়ারে বসে থাকে, কখনো দোকানের সামনে রাখা মগবাটি থেকে ছোট মাছ তুলে খায়—এবং মাঝে মাঝে নিজেই দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের অচেনা করে দেয়।

হেমায়েত উদ্দিন জানান, পাখিটি কোনো কিছু নষ্ট করে না, বরং ভীষণ স্নেহশীল; ক্ষুধা পেলে নিজের ঠোঁট দিয়ে খুনসুটি করে খাবার নেয়, রাতে দোকানের কোণে বিশ্রাম করে। তিনি বলেন, “আমি চাইলে আকাশে উড়িয়ে দেব, কিন্তু পাখিটা যে ভালোবেসে ফিরে আসে—তাই ছাড়তে সাহস হয় না।”

পরিবেশকর্মীরা বলেন, বন্যপ্রাণীর সাথে মানুষের মমত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুন্দর হলেও বন্যপ্রাণী বনেই স্বাভাবিক; দীর্ঘমেয়াদি উপদানের জন্য পাখিটিকে বাঁধা রাখা উপযুক্ত নয়। উপজেলা বন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী স্থায়ীভাবে বক রাখা ঠিক নয়; কর্তৃপক্ষ পাখিটিকে উদ্ধার করে বাগানে ছাড়ার ব্যবস্থা করেছে, তবে পাখিটি হেমায়েতের কাছে ফিরে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ ঘটনার মাঝেই নুরাইনপুর বন্দরের ছোট্ট এই দৃশ্য মানুষকে ভাবায়—কতটা ভালোবাসা প্রাণী রাখে, আর কতটা দায়িত্বশীল ত্যাগ প্রাণীকে মুক্ত আকাশে ফিরিয়ে দেওয়া।

এমবি/এসআর