নাফ নদে মাছ ধরতে গিয়ে চার বাংলাদেশি জেলেকে আটক করল আরাকান আর্মি

কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদে মাছ ধরার সময় চার বাংলাদেশি জেলেকে নৌকাসহ আটক করেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি। সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে শাহপরীর দ্বীপের নাইক্ষ্যংদিয়া সংলগ্ন মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

Oct 27, 2025 - 20:01
 0  2
নাফ নদে মাছ ধরতে গিয়ে চার বাংলাদেশি জেলেকে আটক করল আরাকান আর্মি
ছবি, সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদে মাছ ধরার সময় চার বাংলাদেশি জেলেকে নৌকাসহ আটক করেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি। সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে শাহপরীর দ্বীপের নাইক্ষ্যংদিয়া সংলগ্ন মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় বছর ধরে ওই নদীসংলগ্ন এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আটক জেলেরা হলেন—শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়ার বাসিন্দা নৌকার মালিক আব্দুর রহমান (৩৮), তার ভাই আবুল কালাম (৪০), একই এলাকার শফি আলম (১৯) এবং মনির আহমদ নামের একজন রোহিঙ্গা জেলে।

আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রিত “গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক” নামের একটি ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে আটক জেলে ও নৌকার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশি জেলেরা জলসীমা লঙ্ঘন করায় তাদের আটক করা হয়েছে।

স্ট্যাটাসে আরও বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আরাকান আর্মির হেফাজতে থাকা ১৮৮ জন বাংলাদেশি জেলে এবং ৩০টি নৌকা মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের “পারস্পরিক সম্মান ও প্রতিক্রিয়ার অভাবের কারণে” এবার আটক জেলেদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

সাবরাং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, “স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে শুনেছি, জালিয়া পাড়ার একটি নৌকাসহ চার জেলেকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে গেছে। বিষয়টি আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছি।”

স্থানীয় জেলে সমিতির সভাপতি আবদুল গণি জানান, “আব্দুর রহমানের নৌকাটি সোমবার সকালে নাফ নদে মাছ ধরতে গিয়েছিল। বিকেলে ফেরার পথে মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদিয়া সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আরাকান আর্মির একটি টহলদল নৌকাটিকে ধাওয়া করে আটক করে নিয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “নৌকাটিতে চারজন জেলে ছিলেন। এখনো পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।”

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

এমবি এইচআর