অপহরণ নয়, স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হয়েছিলেন খতিব মোহেববুল্লাহ : আদালতে স্বীকারোক্তি

গাজীপুরের টঙ্গীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি জামে মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ মিয়াজী (৬০) অপহৃত হওয়ার দাবি করলেও, তদন্তে জানা গেছে ঘটনাটি ছিল একটি সাজানো নাটক।

Oct 29, 2025 - 18:54
 0  2
অপহরণ নয়, স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হয়েছিলেন খতিব মোহেববুল্লাহ : আদালতে স্বীকারোক্তি
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের টঙ্গীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি জামে মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ মিয়াজী (৬০) অপহৃত হওয়ার দাবি করলেও, তদন্তে জানা গেছে ঘটনাটি ছিল একটি সাজানো নাটক। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি নিজেই একা টঙ্গী থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত ভ্রমণ করেছেন। পরবর্তীতে আদালতে জবানবন্দিতে তিনি স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

পুলিশ জানায়, ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের সিতাগ্রাম হেলিপ্যাড এলাকার মহাসড়কের পাশে শিকলবন্দি অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। এরপরই দাবি ওঠে, তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হয়।

তবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২২ অক্টোবর সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি একাই টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় চলাফেরা করেন। কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা সন্দেহজনক গাড়ি তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চিত্র পাওয়া যায়নি। এমনকি বগুড়ার শেরপুরে তাঁকে একটি হোটেলের সামনে হাঁটতে দেখা যায়।

পরবর্তীতে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, খতিব মোহেববুল্লাহ আদালতে জবানবন্দিতে বলেন—জিন-জাদুর প্রভাবে তিনি অবচেতন মনে টঙ্গী থেকে মাজুখান, পুবাইল, ভোগড়া হয়ে ঢাকায় যান এবং পরে বাসে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে কোথাও তাঁকে কেউ অপহরণ করেনি বা নির্যাতন চালায়নি।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এর বিচারক যুবায়ের রশীদের কাছে জবানবন্দি দেওয়ার পর তাঁকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া গেছে—খতিব নিজেই পরিকল্পিতভাবে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, তিনি নিখোঁজ অবস্থায় নিয়মিত মোবাইলে যোগাযোগে ছিলেন এবং ভ্রমণের পুরো সময় স্বাভাবিক আচরণ করেন।

তিনি বলেন, “খতিব নিজেই মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী হওয়ায় তাঁকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও গভীর তদন্ত চলছে।”

এমবি এইচআর