কথার আগে গুলি, পদ্মার বুকে নতুন আতঙ্ক ‘কাকন বাহিনী’
পাবনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী ও নাটোরের বিস্তীর্ণ পদ্মার চরাঞ্চলে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে ‘কাকন বাহিনী’। সশস্ত্র এই গ্রুপটি এখন কথার আগে গুলি ছোড়ার জন্যই পরিচিত
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
পাবনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী ও নাটোরের বিস্তীর্ণ পদ্মার চরাঞ্চলে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে ‘কাকন বাহিনী’। সশস্ত্র এই গ্রুপটি এখন কথার আগে গুলি ছোড়ার জন্যই পরিচিত। বালু ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতিদিনই চলছে তাদের দাপট— আতঙ্কে দিন কাটছে চরবাসীর।
গত ১৩ অক্টোবর পাবনার ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নের ইসলামপাড়ায় ইজারাদারদের বালু তোলার সময় কাকন বাহিনীর সদস্যরা হঠাৎ গুলি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলির সেই ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও বেশ কয়েকটি বাড়ির টিনের চালা ও বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়রা বলেন, বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ নিতে কাকন বাহিনীর এমন হামলা এখন নিয়মিত ঘটনা।
সর্বশেষ গত সোমবার (২৭ অক্টোবর) কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের পদ্মা চরে গুলিতে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুজন। নিহতদের নাম আমান মণ্ডল (৩৬) ও নাজমুল মণ্ডল (২৬)। একই ঘটনায় কাকন বাহিনীর সদস্য লিটনও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন মো. রোকনুজ্জামান কাকন ওরফে ইঞ্জিনিয়ার কাকন। তিনি ১৯৯৪ সালে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করলেও বর্তমানে বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র বাহিনী গঠন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই কাকন বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০০৫ সালে পান্না বাহিনীর পতনের পর কিছু সময় শান্ত থাকলেও, ২০০৭ সালে বিদেশ থেকে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় কাকন নতুন করে বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বর্তমানে তার বাহিনী চাঁদাবাজি, জমি দখল, ডাকাতি— এমনকি হত্যাকাণ্ডেও জড়িত বলে একাধিক মামলায় উল্লেখ আছে।
দৌলতপুরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাকনকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
এর আগে ১৭ জুলাই সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ এক যৌথ অভিযানে কাকনের নিয়ন্ত্রিত চর থেকে অস্ত্র, গুলি, মাদক ও মানুষের মাথার খুলি উদ্ধার করে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) চরাঞ্চলে দিনভর পুলিশি অভিযান চালানো হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, “এই অভিযান শুধু আসামি ধরার জন্য নয়, মানুষকে আশ্বস্ত করার জন্যও। চরগুলোতে সন্ত্রাসীদের আর কোনো আশ্রয় থাকবে না।”
এমবি এইচআর

