নাফ নদী থেকে ছয় রোহিঙ্গা জেলে অপহরণ করল আরাকান আর্মি
কক্সবাজারের টেকনাফে মাছ ধরার সময় নাফ নদীর জলসীমা অতিক্রম করায় ট্রলারসহ ছয় রোহিঙ্গা জেলেকে আটক করেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের টেকনাফে মাছ ধরার সময় নাফ নদীর জলসীমা অতিক্রম করায় ট্রলারসহ ছয় রোহিঙ্গা জেলেকে আটক করেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। বুধবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শাহপরীর দ্বীপের বদরমোকাম চ্যানেলে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বেলা ১১টা পর্যন্ত তাঁদের কোনো খোঁজ মেলেনি।
টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালীঘাট ট্রলারমালিক সমিতির সভাপতি সাজেদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, টেকনাফের আবদুল মতলবের মালিকানাধীন ট্রলারটি সাগর থেকে মাছ ধরে ফিরছিল। পথে বদরমোকাম চ্যানেলে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারটি ভেসে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করলে আরাকান আর্মি ছয় জেলেসহ ট্রলারটি জিম্মি করে রাখাইন রাজ্যের নাইক্ষ্যংদিয়া ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।
তিনি জানান, আটক ছয় জেলে রোহিঙ্গা নাগরিক, যারা পরিচয় গোপন করে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তাঁদের নাম— মো. ইয়াছিন, মো. আয়াছ, আতাউর রহমান, জিয়াউর রহমান, কেফায়েত উল্লাহ ও রশিদ উল্লাহ।
এ ঘটনার পর থেকে টেকনাফের জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ট্রলারমালিকরা জানিয়েছেন, অন্য এলাকার জেলেরা ইলিশ ধরতে বঙ্গোপসাগরে গেলেও টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও জালিয়াপাড়ার শতাধিক ট্রলার এখন ঘাটেই নোঙর করে আছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “আরাকান আর্মি ছয় রোহিঙ্গা জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে—এমন খবর আমরা পেয়েছি। রোহিঙ্গারা যেন আশ্রয়শিবির থেকে বের হয়ে কাজ করতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”
উল্লেখ্য, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে ২৭ অক্টোবর নাফ নদী থেকে চার বাংলাদেশি জেলে এবং ২৮ অক্টোবর সাত জেলেসহ আরেকটি ট্রলার অপহরণ করেছিল আরাকান আর্মি।
ট্রলারমালিক ও বিজিবির তথ্যানুযায়ী, গত ১১ মাসে (ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে) আরাকান আর্মি নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে ৩২৮ জন জেলেকে অপহরণ করেছে। তাঁদের মধ্যে ১৮৯ জনকে ফেরত আনা গেলেও এখনো ১৩৯ জন রাখাইন রাজ্যের কারাগারে আটক রয়েছেন।
দীর্ঘ যুদ্ধের পর গত ডিসেম্বর মাসে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীকে হটিয়ে রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় আরাকান আর্মি। এরপর থেকেই সীমান্ত এলাকায় সংঘাত, অপহরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা বেড়ে গেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে টেকনাফ–সেন্ট মার্টিন নৌরুটও এখন বন্ধ রয়েছে।
এমবি এইচআর

