সেন্ট মার্টিনগামী আটলান্টিক ক্রুজ জাহাজে আগুন, ঘুমন্ত কর্মীর মৃত্যু

কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে সেন্ট মার্টিনগামী ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’ জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত নুর কামাল (৩৫) ওই জাহাজের কর্মচারী। আগুন লাগার সময় তিনি জাহাজের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Dec 27, 2025 - 12:38
 0  4
সেন্ট মার্টিনগামী আটলান্টিক ক্রুজ জাহাজে আগুন, ঘুমন্ত কর্মীর মৃত্যু
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে সেন্ট মার্টিনগামী ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’ জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত নুর কামাল (৩৫) ওই জাহাজের কর্মচারী। আগুন লাগার সময় তিনি জাহাজের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে যাত্রী পরিবহনের প্রস্তুতির সময় ঘাটে নোঙর করা অবস্থায় হঠাৎ জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, কোস্টগার্ড এবং প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও নির্বাপণের কাজ চলছিল।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডে জাহাজের এক কর্মচারীর সম্পূর্ণ দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। অন্য কেউ নিখোঁজ আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে জাহাজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি।

সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, আজ ওই জাহাজে করে ১৯৪ জন পর্যটকের সেন্ট মার্টিন যাওয়ার কথা ছিল। সৌভাগ্যক্রমে কেউ জাহাজে ওঠেননি, সবাই ঘাটে অপেক্ষায় ছিলেন। পরে ধারণক্ষমতা অনুযায়ী কিছু যাত্রীকে অন্য জাহাজে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা আগামীকাল যাত্রা করবেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রী নিজামী উদ্দিন বলেন, ‘ভাগ্য ভালো যে জাহাজে ওঠা হয়নি। নিজের চোখে আগুন জ্বলতে দেখা খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন।’

এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে আগুন লেগেছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

উল্লেখ্য, গত ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার–সেন্ট মার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল শুরু হয়। পরিবেশ ও নিরাপত্তা বিবেচনায় ১২টি নির্দেশনা মেনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক পরিবহনের জন্য ছয়টি জাহাজকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এমবি এইচআর