নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ফের সক্রিয় চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীরা

Nov 8, 2025 - 15:52
 0  3
নির্বাচন ঘিরে  রাজনৈতিক আশ্রয়ে ফের সক্রিয় চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীরা

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলিতে নিহত সরওয়ার হোসেন বাবলা–কে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। নিহত বাবলার সঙ্গে বিভিন্ন দলের শীর্ষ রাজনীতিকদের একাধিক ছবি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—রাজনীতিবিদরা কি সন্ত্রাসীদের কাছে টানছেন, নাকি সন্ত্রাসীরাই রাজনীতিকদের আশ্রয় নিচ্ছেন?

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, যেসব দলের ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, সেসব দলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসীরা।

গুলিতে নিহত বাবলা ছিলেন চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ ১৫ মামলার আসামি। তার সঙ্গে সামাজিকমাধ্যমে দেখা গেছে নগর জামায়াতের সাবেক আমির শাহজাহান চৌধুরী, বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী, এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান, ও আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক শাকিলা ফারজানার ছবি।

আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ–এর সঙ্গে রয়েছে বিএনপি নেতা মীর হেলাল উদ্দিনের ছবি।
অন্যদিকে ইসমাইল হোসেন টেম্পু (৩৪ মামলার আসামি) ও শহীদুল ইসলাম বুইশ্যা (১৮ মামলার আসামি) নিজেদের দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ানের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন।

আওয়ামী লীগ আমলেও একই চিত্র ছিল—তখন শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আশ্রয় নিতেন ক্ষমতাসীন নেতাদের ছায়ায়। যেমন, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে দেখা গেছে হত্যা মামলার আসামি ছেঁড়া আকবরকে, আর সাবেক উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরকে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে বাবলার সঙ্গে পরিচয় হয় বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর। জামিনে বের হয়ে নিজেকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারী যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন বাবলা। তবে নগর যুবদল জানিয়েছিল, তিনি তাদের কেউ নন।

১৯ সেপ্টেম্বর বাবলার বিয়েতে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। তবে মৃত্যুর পর বিএনপি দাবি করছে, বাবলা দলের কেউ ছিলেন না।

বাবলার ছোট ভাই আজিজ হোসেন অভিযোগ করেছেন, সন্ত্রাসী সাজ্জাদ ও বিএনপি নেতা মীর হেলাল তার ভাইকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে মীর হেলাল বলেন, “আমার নামে কেউ অপকর্ম করলে তাকে গ্রেপ্তার করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব।”

অন্যদিকে আবু সুফিয়ান বলেন, “আমরা রাজনীতি করি, মানুষ আমাদের সঙ্গে ছবি তোলে। কিন্তু কোনো সন্ত্রাসী আমার অনুসারী নয়।”

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, টেম্পু ও বুইশ্যা এলাকায় আধিপত্য নিয়ে একাধিকবার গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়েছে। তারা বারবার স্থান পরিবর্তন করায় গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হলেও ধরা যাচ্ছে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক–চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন,“নির্বাচন এলেই সন্ত্রাসীদের কদর বাড়ে। রাজনীতিবিদরা আধিপত্য ধরে রাখতে তাদের ব্যবহার করেন। তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এতে হতাশ, কিন্তু রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনো বদলায়নি।”

চট্টগ্রামের এই চিত্র আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে—বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার সিঁড়ি ধরে সন্ত্রাসীরা এখনো সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

এমবি/এসআর