ডিসি নিয়োগে কঠোর অবস্থানে থাকতে পারেনি সরকার
বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের আসন্ন নির্বাচনে না রাখার ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থানে থাকতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের আসন্ন নির্বাচনে না রাখার ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থানে থাকতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন পদায়নে এমন দুই কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) করা হয়েছে, যাঁরা আগের নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার (এআরও) দায়িত্বে ছিলেন।
এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পদায়ন নীতিমালা উপেক্ষা করে আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে প্রমার্জনা দিয়ে ডিসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ডিসি হতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অন্তত দুই বছর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) বা স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।
তবে নতুন নিয়োগে দেখা গেছে, অন্তত একজন কর্মকর্তার পূর্ণ দুই বছরের অভিজ্ঞতা ছাড়াই তাঁকে প্রমার্জনা করে ডিসি করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৫তম ও ২৭তম বিসিএসের দুই কর্মকর্তাকে ডিসি করার বিষয়টি নিয়েও প্রশাসনে আলোচনা চলছে, কারণ তাঁরা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন।
সরকারের ঘোষণায় বলা হয়েছিল, বিতর্কিত তিনটি নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তাকে এবার দায়িত্ব দেওয়া হবে না। কিন্তু যোগ্য কর্মকর্তার স্বল্পতার কারণে শেষ পর্যন্ত সরকার সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের কঠোর শর্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, কারণ গত তিনটি নির্বাচনে প্রায় সবাই কোনো না কোনো পর্যায়ে নির্বাচনি দায়িত্বে ছিলেন।
দুই দফায় ২৯ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এর মধ্যে ২১ জন সম্পূর্ণ নতুন এবং আটজনের জেলা পরিবর্তন করা হয়েছে। জনপ্রশাসনে শর্ত শিথিলের পক্ষে এখন অনেকেই মত দিচ্ছেন। তাঁরা মনে করছেন, একই ক্যাডারের কেউ বঞ্চিত আর কেউ সুবিধাভোগী হওয়া প্রশাসনের জন্য ইতিবাচক বার্তা নয়।
প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও নির্বাচন কমিশন পূর্বে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে গত তিন নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কাউকে এই নির্বাচনে রাখা হবে না। কিন্তু বাস্তবে সেই নীতি আংশিকভাবে পরিত্যক্ত হয়েছে।
প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, যোগ্য ও অভিজ্ঞ ডিসি খুঁজে পেতে সরকার এখন এক ধরনের নীতিগত সংকটে পড়েছে। আগামী দিনগুলোতে আরও পাঁচ থেকে আট জেলায় নতুন ডিসি পদায়নের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে শর্ত আরও শিথিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এমবি এইচআর

