বাবার কোলে চড়ে অনার্স পাস করা হাসি শিক্ষক হতে চান
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় অবিশ্বাস্য মনোবল ও সংগ্রামের গল্প লিখলেন নাইছ খাতুন ওরফে হাসি।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় অবিশ্বাস্য মনোবল ও সংগ্রামের গল্প লিখলেন নাইছ খাতুন ওরফে হাসি। জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও বাবার কোলে ভর করে ১৮ বছর ধরে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করা এই তরুণী এবার অনার্স চূড়ান্ত পর্বে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) প্রকাশিত ফলাফলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে তিনি সিজিপিএ ৩.২০ পেয়েছেন।
দুই পা ও ডান হাত কার্যত অচল, সম্বল শুধু বাঁ হাত। সেই হাতেই লিখে এগিয়ে যাওয়া হাসির শিক্ষাজীবন শুরু হয় ছয় বছর বয়সে। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে এসএসসি, এইচএসসি—সবগুলো পরীক্ষাই পাস করেন স্থির মনোবল নিয়ে। এরপর ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ কেন্দ্রে অনার্স পরীক্ষা দেন।
হাসির বাবা নজরুল ইসলাম ও মা আকতার জাহান—দুজনেই দরিদ্র পরিবারের মানুষ। কিন্তু মেয়ের শিক্ষার সামনে কোনো অভাবই বাধা হতে দেননি। জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী মেয়েকে প্রতিদিন কোলে করে স্কুলে নিয়ে যাওয়া ছিল বাবা নজরুলের দৈনন্দিন দায়িত্ব। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এই পথচলা থেমে যায়নি একদিনও।
হাসি বলেন, “শরীরে শক্তি নেই, তাই কী হবে? মনোবল আর এক হাতের ভরসায়ই এগিয়ে গেছি। মানুষের আড়চোখের দৃষ্টি এখন ভালোবাসায় বদলে গেছে। উচ্চশিক্ষা নিয়ে শিক্ষক হতে চাই, যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি।”
হাসির সাফল্য স্থানীয়দের মধ্যেও আনন্দের জোয়ার এনে দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রতিবন্ধকতা কখনোই জীবনের পথ থামাতে পারে না—হাসি তারই জীবন্ত উদাহরণ।
এমবি/টিআই

