লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে তিন বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা

লিবিয়ায় মানবপাচারকারীদের নৌকায় গুলি চালানোর ঘটনায় নিহত হয়েছেন তিন বাংলাদেশি যুবক—মাদারীপুরের ইমরান, মুন্না ও বায়েজিত। নিহতদের মরদেহ সাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার।

Nov 19, 2025 - 15:42
 0  3
লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে তিন বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

লিবিয়ায় মানবপাচারকারীদের নৌকায় গুলি চালানোর ঘটনায় নিহত হয়েছেন তিন বাংলাদেশি যুবক—মাদারীপুরের ইমরান, মুন্না ও বায়েজিত। নিহতদের মরদেহ সাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার। এ ঘটনায় স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম নেমে এসেছে এবং দালালদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।

স্বজনরা জানান, ভালো জীবনের আশায় অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে গত ৮ অক্টোবর বাড়ি ছাড়েন মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের আদিত্যপুর গ্রামের ইমরান খান। স্থানীয় দালাল শিপন খানের মাধ্যমে ২২ লাখ টাকায় চুক্তি হলেও পরে লিবিয়ায় তাকে আটকে নির্যাতন করে পরিবারের কাছ থেকে আরও ১৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়। গত ১ নভেম্বর ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ইতালির উদ্দেশে রওনা দিলে ভূমধ্যসাগরে গুলিতে মারা যান তিনি। মঙ্গলবার পরিবার তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়।

একই ঘটনায় প্রাণ হারান রাজৈর উপজেলার দুর্গাবর্দ্দীর মুন্না তালুকদার এবং ঘোষলাকান্দির বায়েজিত শেখ। গুলিতে নিহত হওয়ার পর তিনজনের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার পর এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে দালাল শিপনের পরিবারের লোকজন ঘরে তালা ঝুলিয়ে উধাও হয়ে গেছে।

স্বজনদের অভিযোগ, বেশ কয়েক বছর ধরে লিবিয়ায় অবস্থান করছে শিপন। সে আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে এলাকার যুবকদের ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখায় এবং আগে এমন মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গেও সে জড়িত ছিল। অভিযোগ উঠলেও কখনো আইনের আওতায় আসেনি।

ইমরানের বড়বোন ফাতেমা আক্তার বলেন, শিপন দালাল আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। কড়া শাস্তি চাই। সরকারের কাছে অনুরোধ, কমপক্ষে ভাইয়ের মরদেহটি যেন দেখতে পাই।

এমবি এইচআর
ইমরানের আত্মীয় সাজ্জাদ মাতুব্বর বলেন, শিপনের হাত অনেক লম্বা। আগেও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। বিচার না হওয়ার কারণেই এসব অপরাধ বাড়ছে।
মুন্নার খালা খাদিজা আক্তার জানান, ৪০ লাখ টাকা দিয়েও ভাগিনাকে রক্ষা করতে পারিনি। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।
বায়েজিতের বাবা কুদ্দুস শেখ বলেন, অনেক টাকা খরচ করে এমন মৃত্যু কীভাবে মেনে নেব?

অন্যদিকে শিপনের চাচি সেতারা বেগম জানান, তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানেন না। শিপন লিবিয়ায় আছেন এবং পরিবারের সদস্যরাও বাড়িতে নেই।

পুলিশ বলছে, অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লিবিয়ায় গুলিতে তিন যুবকের মৃত্যুর খবর বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি। পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে; দালালদের ছাড় দেওয়া হবে না।