সবাই সচেতন হলে স্বৈরাচারী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না : ড. সায়মা ফেরদৌস

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অত্যাচার ও নির্যাতনের ফল।

Jan 10, 2026 - 16:04
 0  2
সবাই সচেতন হলে স্বৈরাচারী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না : ড. সায়মা ফেরদৌস
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অত্যাচার ও নির্যাতনের ফল। সবাই যার যার অবস্থান থেকে সচেতন হলে এবং নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হলে এ দেশে কখনো স্বৈরাচারী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়াতে পারবে না।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রক্তদান সংগঠন সন্ধানী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ইউনিটের পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন আপোষহীন নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। ড. সায়মা ফেরদৌস বলেন, দেশের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ বিরল দৃষ্টান্ত। রাজপথে তার দৃঢ় কণ্ঠস্বর ও অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ না করার অবস্থানের কারণেই আজ স্বৈরাচারমুক্ত দেশ গড়ার পথ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ আবু সাঈদের বিশ্বাসে ভরা বুক, মুগ্ধের তৃষ্ণার্ত মানুষকে পানি খাওয়াতে খাওয়াতে জীবন উৎসর্গ এবং ওয়াসিমের আত্মত্যাগ—এসবের যথাযথ মূল্যায়ন আমাদের করতেই হবে। জুলাইকে হেরে যেতে দেওয়া যাবে না। এ দেশের মানুষ নিজেদের অধিকার রক্ষায় বারবার রক্ত দিয়েছে। পরিবর্তনের কথা বললেই হবে না, এই পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়; যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ড. সায়মা ফেরদৌস বলেন, পুরো দেশের দিকে তাকানোর পাশাপাশি নিজের জায়গাটিকে সৎভাবে ও সঠিকভাবে পরিচালনা করলেই প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব। দেশপ্রেম তখনই জাগ্রত হয়, যখন রাষ্ট্র দেশপ্রেমকে মূল্যায়ন করে।

ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটের অধিকার মানে আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকেই দেব—এটাই প্রতিটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার, যা দীর্ঘদিন ধরে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তরুণ প্রজন্মকে ভোটের গুরুত্ব বুঝতে হবে। যারা স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, পাহাড়-সমতল সব জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশি প্ল্যাটফর্মে আনবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে—এমন যোগ্য প্রার্থীকেই বিবেকের আলোকে ভোট দিতে হবে।

ড. সায়মা বলেন, আমি গর্ববোধ করি আমি কুমিল্লার মেয়ে। কুমিল্লায় যতবারই আসি, মনে হয় নিজের ঘরেই ফিরে এসেছি।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মির্জা মোহাম্মদ তাইয়্যেবুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সন্ধানী কুমেক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আসিফ মোস্তফা। বেগম খালেদা জিয়ার জন্য শোক প্রস্তাব পেশ করেন ডা. সাঈদ মো. সারোয়ার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুজ্জামান ভুঁইয়া এবং মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজুদ্দিন রিয়াজ।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন কুমেকের উপাধ্যক্ষ ডা. সজীবুর রশিদ, ড্যাব কুমেক শাখার সভাপতি ডা. মিনহাজুর রহমান তারেক, ডা. রাশেদুজ্জামান রাজীব, ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডা. আশরাফুল মতিন সাগরসহ আরও অনেকে।

এমবি এইচআর