তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা পুনর্বহাল হবে কি না, জানা যাবে ২০ নভেম্বর
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার জন্য ২০ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেছে আপিল বিভাগ। টানা দশ দিন শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দেয়।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার জন্য ২০ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেছে আপিল বিভাগ। টানা দশ দিন শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দেয়।
২০০৭–এর রাজনৈতিক অস্থিরতার পটভূমিতে তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কের সূত্র ধরে ২০১১ সালে আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার পঞ্চদশ সংশোধনী এনে নির্বাচনকালীন এই সরকারব্যবস্থা সংবিধান থেকে সরিয়ে দেয়।
গত বছরের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করে। এর মধ্যে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি উল্লেখযোগ্য। সেন্টার ফর ল গভর্ন্যান্স অ্যান্ড পলিসি মামলায় ইন্টারভেনার হিসেবে যুক্ত হয়।
শুনানিতে পক্ষগুলো তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর এর প্রভাব এবং পূর্ববর্তী আদালতের রায়ের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে। রাষ্ট্রপক্ষ বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো বজায় রাখার পক্ষ নেয়।
১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত হয়। ২০১১ সালে আপিল বিভাগের রায়ের পর এটি বাতিল হয় এবং পরবর্তীতে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়, যার কয়েকটি ধারা গত বছর হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করে। সেই রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করা হয়েছে।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন দৃষ্টি ২০ নভেম্বরের দিকে—সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কী দাঁড়ায়, তা-ই নির্ধারণ করবে পরবর্তী রাজনৈতিক পথচিত্র।
এমবি এইচআর

