চুক্তির শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের বেশি দামের গম কিনছে বাংলাদেশ

রাশিয়ান গমের তুলনায় দাম কম হলেও বাণিজ্যিক চুক্তির শর্ত ও কৌশলগত সম্পর্ক রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি দামে গম কিনছে বাংলাদেশ সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের গমে মান ও প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকলেও, মূল কারণ হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সমঝোতা।

Oct 27, 2025 - 13:19
 0  2
চুক্তির শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের বেশি দামের গম কিনছে বাংলাদেশ
ছবি, সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
রাশিয়ান গমের তুলনায় দাম কম হলেও বাণিজ্যিক চুক্তির শর্ত ও কৌশলগত সম্পর্ক রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি দামে গম কিনছে বাংলাদেশ সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের গমে মান ও প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকলেও, মূল কারণ হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সমঝোতা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা রবিবার দ্য ডেইলি স্টার-কে জানান, বর্তমানে প্রতি টন আমেরিকান গমের দাম ৩০৮ ডলার, যেখানে রাশিয়ান গম বিক্রি হচ্ছে ২২৬ থেকে ২৩০ ডলারে। অর্থাৎ প্রতি টনে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ ডলারের পার্থক্য থাকলেও সরকার চুক্তির শর্ত মেনে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই গম আমদানি করছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শনিবার চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা ৫৭ হাজার টন গমের প্রথম চালান এসে পৌঁছেছে। এটি মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টনের চুক্তির অংশ, যা চলতি বছরের শুরুতে খাদ্য অধিদপ্তর ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দপ্তরের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় কেনা হচ্ছে।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের ওপর শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে আনে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির পর এই শুল্ক কমানো হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে সেখান থেকে।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাজার রক্ষা করা, যা এ বছর শেষে ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য অংশীদার, রাশিয়ার তা নয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুটা সুবিধা দেওয়া যৌক্তিক।”

সচিব জানান, যুক্তরাষ্ট্রের গমে প্রোটিনের পরিমাণ ও মান রাশিয়ার তুলনায় ভালো। এছাড়া ক্ষতিকর পোকা ও আর্দ্রতার কারণে রাশিয়ান গমের ১২ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। তদুপরি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সেখান থেকে গম সরবরাহ অনিশ্চিত, এমনকি জাহাজ চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, বেসরকারি খাত চাইলে রাশিয়া থেকে কম দামে গম আনতে পারে, তবে সরকারের উদ্যোগ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর অংশ।

সরকারের এই উদ্যোগের মধ্যে বোয়িং বিমান, এলএনজি, গম, তুলা ও সয়াবিনসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য আমদানিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসলিম শাহরিয়ার বলেন, “আমরা দামের প্রতিযোগিতা বিবেচনা করে গম আমদানি করি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের গমের মান সাধারণত রাশিয়ার চেয়ে ভালো।”

তিনি জানান, মেঘনা গ্রুপ মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি করে, তবে গমের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম করে। চীন বর্তমানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকে সয়াবিন কিনছে, ফলে মার্কিন সয়াবিনের দাম কিছুটা কমে এসেছে। 

এমবি এইচআর