ঢাকার ৭ কলেজের শিক্ষকেরা তিন দিনের কর্মবিরতিতে, ক্লাস বন্ধ
ঢাকার ৭ সরকারি কলেজের শিক্ষকেরা আজ মঙ্গলবার থেকে টানা তিন দিনের পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এর ফলে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজে ক্লাস বন্ধ রয়েছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
ঢাকার ৭ সরকারি কলেজের শিক্ষকেরা আজ মঙ্গলবার থেকে টানা তিন দিনের পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এর ফলে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজে ক্লাস বন্ধ রয়েছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান পরীক্ষাগুলো এই কর্মসূচির বাইরে রাখা হয়েছে।
শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ কর্তৃক ১৬ নভেম্বর জারি করা ভর্তি ও ক্লাস শুরুর বিজ্ঞপ্তি আইনসম্মত নয় এবং এতে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাঁদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ভর্তি নিশ্চায়ন ও ক্লাস শুরুর নির্দেশনা দেওয়া আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
আজ সকাল ১১টার দিকে ঢাকা কলেজ পরিদর্শনে দেখা যায়, কলেজ চত্বরে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী ঘোরাফেরা করলেও ক্লাস হয়নি। অনেক শিক্ষার্থী সকালে উপস্থিতি দিলেও পরে কলেজ ছেড়ে চলে গেছে। মিলনায়তনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন।
শিক্ষকেরা বলেন, তাঁরা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি কলেজে দায়িত্ব পালনে বাধ্য, তাই প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি নিশ্চায়ন বা ক্লাস পরিচালনায় তাঁদের কোনো ভূমিকা থাকতে পারে না। সাত কলেজের স্বতন্ত্র কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে দ্রুততম সময়ে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারি করে সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
২০১৭ সালে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিতে আসার পর থেকেই সাত কলেজকে ঘিরে নানা বিভ্রান্তি ও সংকট চলমান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পুনরায় আলাদা করার ঘোষণা দেওয়া হয়; কিন্তু নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো চূড়ান্ত না করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। বর্তমানে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রস্তাবিত কাঠামোর বিরোধিতা করে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার পূর্ণ দিবস কর্মবিরতিতে গেলেন তাঁরা, যা চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত।
এমবি এইচআর

