গাজা দখলে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু, নিহত ৮১

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজা সিটি দখলে পুরোদমে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। এ হামলায় বিভিন্ন স্থানে একদিনে আরও ৮১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের এ সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘গিডিওন চ্যারিওটস’। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বুধবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলা ও অবরোধজনিত ক্ষুধায় অন্তত ৮১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে ইসরায়েলি সেনারা জানিয়েছে, তারা গাজার সবচেয়ে বড় নগরকেন্দ্র গাজা সিটি দখলের লক্ষ্যে সামরিক অভিযান ‘গিডিওন চ্যারিওটস’ শুরু করেছে। সেখানে এখনো প্রায় ১০ লাখ মানুষ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আটকে আছেন।
এদিন গাজায় মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ জন। অন্যদিকে অনাহার ও অপুষ্টিতে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।
বুধবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র এফি ডেফ্রিন জানান, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা সিটির উপকণ্ঠে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
ডেফ্রিন বলেন, সেনাবাহিনীর ৯৯তম ডিভিশন দক্ষিণ-পূর্ব গাজার আল-জাইতুন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি হামাস সুড়ঙ্গ উন্মোচন করেছে। পাশাপাশি সেনারা উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়ায় অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে আগে থেকেই ভারী বোমাবর্ষণ চলছে।
তিনি আরও জানান, সেপ্টেম্বর থেকে অতিরিক্ত ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনা ডাকা হয়েছে এবং কয়েকটি ব্যাটালিয়নের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে গাজা সিটির উত্তরাঞ্চলে নতুন করে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এর আগে আল-সাবরা ও আল-জাইতুন এলাকায় এ ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেনাপক্ষ দাবি করছে, অভিযানের মধ্যেও সীমিত আকারে মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে। আমরা অভিযানের লক্ষ্য পূরণে প্রস্তুত এবং নির্দেশ পেলেই হামাসকে আরও বড় ক্ষতি করতে পারব।
এদিকে শুধু বুধবারই ক্ষুধায় মারা গেছেন আরও তিন ফিলিস্তিনি। এ নিয়ে খাদ্যাভাব-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৬৯ জনে, যাদের মধ্যে ১১২ জন শিশু।
আল জাজিরা বলছে, ইসরায়েলি হামলার মধ্যে দক্ষিণ গাজার এক তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুতদের ওপর হামলায় নিহত হন তিনজন। দক্ষিণ গাজায় ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ফিলিস্তিনি জাতীয় বাস্কেটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় মোহাম্মদ শালান। ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে শুধু বুধবারই অন্তত ৩০ জন ত্রাণ প্রত্যাশী নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে হামাস এই নতুন ধাপকে ‘গণহত্যার’ অংশ বলে আখ্যা দিয়েছে। গাজা সিটিতে প্রায় এক মিলিয়ন বাসিন্দা ও উদ্বাস্তুদের ওপর এ হামলা চালিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শান্তি মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করছেন বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। হামাস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল অতীতের মতো এবারও ব্যর্থ হবে।
তারা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানায়, যাতে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানো হয়। হামাসের দাবি, এ হামলার উদ্দেশ্য হলো ‘গাজায় জীবনের অবশিষ্টাংশ ধ্বংস করা।’ সংগঠনটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে মানবিক বিপর্যয়ের পূর্ণ দায়ভার বহন করতে হবে বলেও সতর্ক করে।
এদিকে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক করে জানায়, নতুন করে উদ্বাস্তু বাড়ানো ও হামলার তীব্রতা এরইমধ্যেই ভয়াবহ পরিস্থিতিকে আরও বিপর্যস্ত করতে পারে। বর্তমানে গাজার ৮০ শতাংশের বেশি এলাকা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের আওতায় রয়েছে।
এমবি/এসআর