গাজার নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে রাজি নয় হামাস, নিরস্ত্র হতেও অনীহা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা এগোলেও গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

Oct 18, 2025 - 15:47
 0  2
গাজার নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে রাজি নয় হামাস, নিরস্ত্র হতেও অনীহা
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা এগোলেও গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজ্জাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে গাজার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখতে চায় সংগঠনটি এবং এখনই নিরস্ত্র হওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি নয় তারা।

দোহা থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাজ্জাল বলেন, সাহায্যবাহী ট্রাকের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় হামাসের মাঠে থাকা প্রয়োজন। তিনি জানান, হামাস পাঁচ বছরের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতিতে রাজি, যাতে গাজার ধ্বংসযজ্ঞের পর পুনর্গঠন সম্ভব হয়।

তবে তিনি শর্ত দিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতির পর ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি ও রাজনৈতিক আশ্বাস দিতে হবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার অন্যতম শর্ত হলো হামাসের অস্ত্রত্যাগ। কিন্তু নাজ্জাল বলেন, “আমি সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে পারি না। নিরস্ত্রীকরণ মানে কী? অস্ত্র কার কাছে জমা দেব? এসব এখনো অস্পষ্ট।”

তিনি আরও জানান, নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুটি শুধু হামাস নয়, বরং পুরো ফিলিস্তিনি জাতীয় প্রক্রিয়ার অংশ হওয়া উচিত, যাতে অন্যান্য সমরগোষ্ঠীগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সম্প্রতি গাজায় প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে হামাস। এ বিষয়ে নাজ্জাল বলেন, “যুদ্ধকালীন সময়ে ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়; মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা খুনি ও অপরাধী ছিল।”

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় বন্দী হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৮ জনের মরদেহের ৯টি ফেরত দিয়েছে হামাস। বাকি মরদেহ উদ্ধারে কারিগরি সমস্যা রয়েছে বলে জানান নাজ্জাল। তিনি আরও বলেন, তুরস্ক বা যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক অংশীদাররা এ কাজে সহযোগিতা করতে পারে।

এমবি এইচআর