রয়টার্স অনুসন্ধান: নিজ দেশের সরকার পতনে নোবেলজয়ী মাচাদো-ট্রাম্পের ‘গোপন পরিকল্পনা’
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: রয়টার্সের বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো ও তাঁর দলের প্রতিনিধিরা ভয়েস-আণ্ড-ডেটাইল কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করেছেন—বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ধীরে গড়া নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে। প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্যাপিটল হিলে ওয়াল্টজ ও রিপাবলিকান নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মাচাদোর দল মাদুরো ও সশস্ত্র গোষ্ঠী ত্রেন দে আরাগার (টিডিএ) সম্পর্ক নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করে।
রয়টার্সের অনুসন্ধানে বলা হয়, এসব তথ্যের আড়ালে মাচাদোর দলের অর্জিত বয়ানগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকাকে প্রভাবিত করেছে—এর মধ্য দিয়ে টিডিএকে ‘সংকটোপদ্রবী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং মাদুরোকে গ্রেফতারির পুরস্কার ঘোষণা পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রয়টার্স ৫০টির বেশি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এই নেপথ্য সম্পর্ক ও তথ্যপ্রবাহের চিত্র আঁকেছে; সূত্রগুলোতে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তারা, বিরোধীদলীয় আয়োজক এবং গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের সঙ্গে যোগাযোগকারীরা।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাচাদোর দল মাদুরো-শাসনের বিরুদ্ধে তথ্য-ভিত্তিক অভিযোগ তৈরি করে তা ট্রাম্প দল ও কিছুমাত্রায় মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানকে পৌঁছে দিয়েছে। এর পরিণাম হিসেবে ওয়াশিংটন টিডিএকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে এবং মাদুরোকে গ্রেফতারের প্রস্তাব দেয়। টিডিএ ও কার্টেল-সংক্রান্ত অভিযোগের প্রমাণাবলীর রেখায় রয়টার্স কিছু অংশে শঙ্কা ব্যাক্ত করে—যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে এসব দাবির সমর্থনে সরাসরি ও সুস্পষ্ট প্রমাণ সর্বদা নেই।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে উঠেছে এমনও প্রশ্ন— বিরোধীরা যদি যুক্তরাষ্ট্রের খামখেয়ালী বা আক্রমণাত্মক কৌশলকে উৎসাহিত করে থাকেন, তাহলে তা ভেনেজুয়েলার কোর্টন ও নিরাপত্তা-পরিস্থিতিকে কতোটা বিপন্ন করবে। মাচাদোর মিত্রদের মধ্যে এমনও ধারনা রয়েছে যে, মাদুরোকে সরাতে বিদেশি চাপ একটি কার্যকর উপায় হতে পারে; অন্যদিকে অনেকেই মনে করেন, এ পথে গেলে ভেনেজুয়েলার সাধারণ জনগণের বড় ক্ষতি হবে এবং বিরোধীদলীয় নেতৃত্বও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হতে পারে।
রয়টার্স অ্যাক্সেস করা সূত্রগুলো বলছে, মাচাদোর দলের সঙ্গে ট্রাম্প দলের যোগাযোগ ছিল নিয়মিত এবং পরিকল্পনামুখী—জানুয়ারির বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি কড়াকড়ি পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে টিডিএসহ কিছু গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ ঘোষণাও আছে। কিন্তু রয়টার্স পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি যে মাচাদোর প্রভাব কতটা নির্ধারক ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের যেসব সিদ্ধান্তে। মাচাদো নিজে প্রতিবেদনের মন্তব্যের অনুরোধ গ্রহণ করেননি; মাইক ওয়াল্টজও প্লেসহোল্ডার ভূমিকা থেকে পরে মন্তব্য করেননি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি বিরোধীরা বিদেশি শক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সরাসরি কৌশল গ্রহণ করে, তাতে তারা অর্জিত আভ্যন্তরীণ সমর্থন হারাতে পারেন; অপরদিকে কৌশল সফল হলে মাদুরোকে দুর্বল করা সম্ভব—এটাই মাচাদো দলের ‘ঝুঁকি বেশি, লাভও বেশি’ মূল্যায়ন বলে রয়টার্সে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পটভূমিতে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, মানবাধিকার ও ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, বাইরের সক্রিয় হস্তক্ষেপের পথ ভেনেজুয়েলায় স্থিতিশীলতা আনে কি না, তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
এমবি/এসআর

