তানজানিয়ায় নির্বাচনের পর উত্তপ্ত পরিস্থিতি, বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার

Nov 9, 2025 - 10:38
 0  2
তানজানিয়ায় নির্বাচনের পর উত্তপ্ত পরিস্থিতি, বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি:

তানজানিয়ায় সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের পর দেশজুড়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বিরোধী দল চাদেমার নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। এ সময় দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ।

শনিবার সকালে দলটির উপমহাসচিব আমানি গোলুগওয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে নির্বাচনের আগেই দলীয় প্রধান তুন্ডু লিসু এবং উপনেতা জন হেচেকেও আটক করা হয়। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারের আগের দিন রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দুই শতাধিক মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়। আইনজীবী পিটার কিবাতালা জানান, মোট ২৫০ জনকে তিনটি পৃথক মামলায় হাজির করা হয়েছে, এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ।

সরকারি নির্বাচনী কমিশনের তথ্যানুসারে, প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান ৯৮ শতাংশ ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তবে বিরোধী দল চাদেমা এই নির্বাচনকে ‘ভুয়া ও প্রহসনমূলক’ বলে দাবি করেছে।

দলটির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হয়েছে, সরকার তাদের নেতৃত্বকে পঙ্গু করতে এবং কার্যক্রম বন্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে দমননীতি চালাচ্ছে। পুলিশ গোলুগওয়াসহ নয়জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আরও জানানো হয়েছে, চাদেমার মহাসচিব জন মনিয়িকা ও যোগাযোগ প্রধান ব্রেন্ডা রুপিয়া এখন পুলিশের ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন।

গত ২৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ রাজধানী দার এস সালাম ছাড়িয়ে আরুশা, মওয়াঞ্জা ও মবেয়াসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সরকার এখনও পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

তানজানিয়ার ক্যাথলিক চার্চ জানিয়েছে, বিক্ষোভে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। চাদেমা দাবি করেছে, নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে, কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী লাশ গোপন করছে। অপরদিকে, প্রতিবেশী কেনিয়া মানবাধিকার কমিশন বলছে, নিহতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ। সংস্থাটি গুলিবিদ্ধ মৃতদেহের ছবিসহ প্রমাণও প্রকাশ করেছে।

আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তানজানিয়ার নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করেনি এবং পর্যবেক্ষক দল ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের একাধিক প্রমাণ পেয়েছে।

১৯৯২ সালে বহুদলীয় রাজনীতি চালুর পর থেকে তানজানিয়ায় কার্যত একদলীয় প্রভাবই বজায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট সামিয়া হাসানের বিরুদ্ধে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ ও একচ্ছত্র শাসনের অভিযোগ উঠেছে।

এমবি/এসআর