আমরণ অনশনে শিক্ষকরা, শিক্ষা উপদেষ্টাকে আলটিমেটাম

Oct 21, 2025 - 10:25
 0  3
আমরণ অনশনে শিক্ষকরা, শিক্ষা উপদেষ্টাকে আলটিমেটাম

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: বাড়ি ভাড়া ভাতা ২০ শতাংশ বৃদ্ধির দাবিতে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা গতকাল সোমবার থেকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। একই সঙ্গে তারা শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরারকে দুই দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় মুখে কালো কাপড় বেঁধে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এমপিওভুক্ত ও শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজি বলেন, “আমরা ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করব। ততক্ষণে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে, দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন কর্মসূচি দেখা যাবে। সারা দেশের শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে আমরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করব।”

তিনি জানান, সোমবার থেকে শুরু হওয়া অনশনে ইতোমধ্যে চারজন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শিক্ষা উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আমরা তাঁর সিদ্ধান্ত মানি না। যদি তিনি আমাদের দাবি মানতে না পারেন, তাহলে তাঁকে মন্ত্রণালয় ছাড়তে হবে। কোনো প্রাণহানির দায় তাঁরই।”

জোটের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যারা ঢাকায় আসতে পারবেন না, তারা প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা সদরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। প্রয়োজনে ঢাকায় বড় সমাবেশেরও ঘোষণা দেওয়া হবে।

বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে বলে জানিয়েছেন সদস্য সচিব আজীজি। তবে তিনি বলেন, “প্রজ্ঞাপন জারি না হলে কোনো প্রতিক্রিয়াই গ্রহণযোগ্য নয়।”

সরকারি প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সোমবার শিক্ষকদের অনশন কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী। তিনি বলেন, “৫ শতাংশ বাড়ি ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয়। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা খাতকে জাতীয়করণ করা হবে।”

এ ছাড়া সন্ধ্যায় গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর ও রাশেদ খানও কর্মসূচিস্থলে গিয়ে সংহতি জানান।

অন্যদিকে, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম এক সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত দাবি পূরণের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা এবিএম জাকারিয়া বলেন, “শিক্ষাবর্ষের শেষ প্রান্তে এসে শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এখনই দাবি পূরণ না হলে শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, যার ক্ষতি আর পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।”

এমবি/এসআর