আরপিও সংশোধন: ফেরারি আসামিরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। নতুন সংশোধনীতে ফেরারি আসামিদের প্রার্থীতা অযোগ্য ঘোষণা, মিথ্যা তথ্য দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল, জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন, ‘না ভোট’ পুনঃপ্রবর্তনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

Nov 4, 2025 - 13:29
 0  2
আরপিও সংশোধন: ফেরারি আসামিরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। নতুন সংশোধনীতে ফেরারি আসামিদের প্রার্থীতা অযোগ্য ঘোষণা, মিথ্যা তথ্য দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল, জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন, ‘না ভোট’ পুনঃপ্রবর্তনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কিংবা লাভজনক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পদে থাকলে প্রার্থী হওয়া যাবে না।

সোমবার (৩ নভেম্বর) আইন মন্ত্রণালয় এ অধ্যাদেশটি গেজেট আকারে প্রকাশ করে। এর আগে ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুচ্ছেদ ২ সংশোধনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের আর জটিলতা থাকবে না।

অনুচ্ছেদ ৮ অনুসারে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা এখন থেকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার হাতে থাকবে। আগে এই দায়িত্ব ছিল জেলা প্রশাসকের ওপর। অনুচ্ছেদ ৯ অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসার প্রয়োজনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করতে পারবেন, তবে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করতে হবে।

অনুচ্ছেদ ১২ অনুসারে আদালতের রায়ে ফেরারি বা পলাতক আসামি ঘোষিত ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন। একইভাবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বা নির্বাহী পদে থাকা ব্যক্তিও প্রার্থী হতে পারবেন না। লাভজনক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পদকেও ‘লাভজনক পদ’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

প্রার্থীদের হলফনামায় দেশে-বিদেশে আয়ের উৎস ও সর্বশেষ বছরের রিটার্ন জমা দিতে হবে। কেউ মিথ্যা তথ্য দিলে এবং তা প্রমাণিত হলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশন প্রয়োগ করতে পারবে।

জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ১৯ অনুসারে ‘না ভোট’ পুনর্বহাল করা হয়েছে। কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলে ব্যালটে ‘না ভোট’ থাকবে। ‘না ভোট’ বেশি পড়লে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

অনুচ্ছেদ ২০ অনুযায়ী, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও নিজ নিজ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।

নতুন সংশোধনীতে ইভিএম ব্যবহারের বিধান বাতিল করা হয়েছে। পরিবর্তে প্রবাসী, সরকারি চাকরিজীবী ও কয়েদিদের জন্য আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিংয়ের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

ভোট গণনার সময় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থাকতে পারবেন। সমান ভোট পড়লে লটারির পরিবর্তে পুনরায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দলীয় ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ্যে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক পর্যায় পর্যন্ত কর্মকর্তাদের বদলিতে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে।

গুজব, অপতথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধে প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা জরিমানার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। দলের ক্ষেত্রেও জরিমানার বিধান কার্যকর হবে।

এমবি এইচআর