সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা পাচারে এস আলমসহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, দুদকের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ মামলা

Nov 9, 2025 - 18:14
 0  4
সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা পাচারে এস আলমসহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, দুদকের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ মামলা

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম)সহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রবিবার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়–১-এ এই মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলায় ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে সিঙ্গাপুরে পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. তানজির আহমেদ বলেন, “এটি দুদকের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচার মামলা।”

এজাহারে বলা হয়েছে, এস আলম গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠান— এস আলম রিফাইন্ড সুগার, এস আলম স্টিলস লিমিটেড এবং এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড— ইসলামী ব্যাংক থেকে মোট ৯ হাজার ২৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ঋণ নেয়, যা বর্তমানে সুদসহ ১০ হাজার ৪৭৯ কোটি ৬২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এস আলমসহ আসামিরা ইসলামী ব্যাংকের নিয়ম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার উপেক্ষা করে অপ্রতুল জামানতের বিপরীতে এই বিপুল ঋণ নিয়েছেন। তারা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং পরবর্তীতে বিদেশে পাচার করেন।

মামলায় আসামি করা হয়েছে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ছাড়াও গ্রুপের ১৪ জন কর্মকর্তা এবং ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান ও সাবেক ৫৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে।

এস আলম গ্রুপের কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান, আব্দুস সামাদ, ওসমান গনি, রাশেদুল আলম, সহিদুল আলম, ফারজানা পারভীন, এস এম নেছার উল্লাহ প্রমুখ।

ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— মো. মাহবুব উল আলম, মোহাম্মদ মনিরুল মাওলা, মুহাম্মদ কায়সার আলী, মোহাম্মদ ইহসানুল ইসলাম, তাহের আহমেদ চৌধুরী, মো. নাজমুল হাসান, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, আবদুল মতিনসহ অনেকে।

দুদক জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের নামে নেওয়া ঋণের বড় অংশই বিদেশে পাচার ও অন্য খাতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

দুদকের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “এই মামলাটি শুধু একটি ব্যাংক কেলেঙ্কারি নয়, এটি দেশের অর্থনীতির নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য আসার সম্ভাবনা আছে।”

এমবি/এসআর