লালদিয়া ও পানগাঁও টার্মিনালের দায়িত্ব বিদেশিদের হাতে; চুক্তি সই

Nov 18, 2025 - 11:43
 0  4
লালদিয়া ও পানগাঁও টার্মিনালের দায়িত্ব বিদেশিদের হাতে; চুক্তি সই

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল এবং ঢাকার কাছে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালের দায়িত্ব দীর্ঘ মেয়াদে দুই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সোমবার ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল মিলনায়তনে দুটি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল আগামী ২২ বছর পরিচালনা করবে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক লজিস্টিক প্রতিষ্ঠান মেডলগ। চুক্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও মেডলগ বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিষ্ঠান মেডলগ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের মধ্যে স্বাক্ষর হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং মেডলগ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম আনিসুল মিল্লাত নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

পানগাঁও টার্মিনাল ঢাকার-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের কাছাকাছি বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। মেডলগ টার্মিনালের বার্ষিক পণ্য সামলানোর ক্ষমতা এক লাখ ৬০ হাজার কনটেইনারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে। তারা বার্জ, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও বিশেষায়িত যানবাহনের মাধ্যমে মাল্টিমোডাল পরিবহন জোরদার করবে, যা আমদানি-রপ্তানি পণ্যের পরিবহন সময় কমাবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে। মেডলগ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম আনিসুল মিল্লাত বলেন, “পানগাঁও টার্মিনাল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন মান গড়ে তুলবে এবং অভ্যন্তরীণ লজিস্টিকে বাংলাদেশকে অঞ্চলের শীর্ষে নিয়ে যাবে।”

অন্যদিকে, চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগে নতুন রূপ নিচ্ছে। ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস ৩০ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তিতে নিজস্ব অর্থায়নে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। ৫৫০ মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পটি দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, “চট্টগ্রামের বন্দর দ্রুত বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ দক্ষতা ও আধুনিক অবকাঠামোর প্রয়োজন।” নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “লালদিয়া টার্মিনাল বড় জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে এবং রপ্তানিকারকদের জন্য বন্দরসেবা আরও নির্ভরযোগ্য হবে।”

পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী আশিক চৌধুরী বলেন, “এই প্রকল্প প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে পিপিপি এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। লালদিয়া চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। সরকার কোনো ঋণ নেবে না এবং টার্মিনাল পরিচালনার মাধ্যমে দেশের সরাসরি আয়ও বাড়বে।”

এপিএম টার্মিনালস চুক্তির মেয়াদে মোট বিনিয়োগ ৮০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে। টার্মিনাল চালু হলে বছরে আট লাখ টিইইউ অতিরিক্ত হ্যান্ডলিং সক্ষমতা তৈরি হবে। একই সঙ্গে মেডলগ পানগাঁও টার্মিনালে আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আসে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ লজিস্টিকের মান উন্নত করবে।

এমবি/এসআর