নির্বাচনী প্রচারণায় কী করতে পারবেন প্রার্থীরা, কী পারবেন না

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। গত বুধবার রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা।

Jan 22, 2026 - 11:26
 0  2
নির্বাচনী প্রচারণায় কী করতে পারবেন প্রার্থীরা, কী পারবেন না
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। গত বুধবার রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। প্রার্থীরা মোট ২০ দিন প্রচারণার সুযোগ পাবেন, যা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। প্রচারণার ক্ষেত্রে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না—সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনাও দিয়েছে কমিশন।

আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। তবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য বা উসকানিমূলক ভাষা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোনো প্রার্থীই পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। একই সঙ্গে যেকোনো প্রচার সামগ্রীতে পলিথিন ও রেকসিন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্বাচনী জনসভা বা সমাবেশ আয়োজনে বাধা নেই। তবে সভা বা সমাবেশ আয়োজনের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিন, তারিখ ও সময় জানাতে হবে। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে—এমন কোনো সভা, সমাবেশ বা পথসভা করা যাবে না। সড়ক, মহাসড়ক বা জনপথে সভা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসি। একই সঙ্গে প্রার্থীর পক্ষে বিদেশে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ আয়োজন নিষিদ্ধ।

প্রচারণায় একজন প্রার্থী তার নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি বিলবোর্ডের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১৬ ফুট এবং প্রস্থ ৯ ফুটের বেশি হতে পারবে না। ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

আচরণবিধি অনুযায়ী, ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন অবশ্যই সাদা-কালো হতে হবে। ব্যানারের মাপ সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল সর্বোচ্চ এ-ফোর আকারের এবং ফেস্টুনের সর্বোচ্চ মাপ ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এসব প্রচার সামগ্রীতে প্রার্থী ও তার প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। প্রার্থীর ছবি হতে হবে শুধু পোর্ট্রেট আকারে এবং ছবির সর্বোচ্চ আয়তন হবে ৬০ সেন্টিমিটার বাই ৪৫ সেন্টিমিটার। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা কেবল দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতা ৩ মিটারের বেশি হতে পারবে না। প্রচারে তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট বা প্রতিনিধিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে প্রচার শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজ, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইলসহ শনাক্তকরণ তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

নির্বাচনী আচরণবিধিতে ঘৃণাত্মক, মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বা উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না। ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহারও নিষিদ্ধ। সব প্রচার কনটেন্ট প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করতে হবে; মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, অশ্লীল বা মানহানিকর তথ্য তৈরি বা শেয়ার করা যাবে না।

গুজব ও এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রচারণায় বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেলসহ কোনো যান্ত্রিক বাহন নিয়ে মিছিল, জনসভা বা শোডাউন করা যাবে না। যানবাহনসহ বা যানবাহন ছাড়া কোনো ধরনের মশাল মিছিলও নিষিদ্ধ। রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কেউ হেলিকপ্টার বা আকাশযান ব্যবহার করতে পারবেন না।

ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি বা প্রতীক উল্লেখ করা যাবে না বলেও আচরণবিধিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। কোনো প্রার্থী বা দল বিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে। দলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে।

এমবি এইচআর