জুলাই যোদ্ধাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ স্বীকৃতি, পৃথক দপ্তর খোলার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

জুলাই–আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

Jan 18, 2026 - 14:27
 0  3
জুলাই যোদ্ধাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ স্বীকৃতি, পৃথক দপ্তর খোলার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

জুলাই–আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের দায়িত্ব নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও গুরুতর আহতদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধারাও মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা যেমন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন ও ত্যাগ দিয়েছেন, তেমনি চব্বিশে যারা লড়াই করেছেন, তারাও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যই সংগ্রাম করেছেন। তাঁর ভাষায়, একাত্তরে যুদ্ধ হয়েছিল স্বাধীনতা অর্জনের জন্য, আর সেই স্বাধীনতা রক্ষাতেই চব্বিশে আবার যুদ্ধ হয়েছে।

জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোর বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কষ্ট লাঘবে রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। যারা হারিয়ে গেছেন, তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়—তবে তাদের পরিবারগুলোর দেখভাল, সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। এ লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন বিভাগ গঠন করা হবে, যার প্রধান দায়িত্ব থাকবে জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোর কল্যাণ নিশ্চিত করা।

তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি সরকারে থাকাকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছিল। একই ধারাবাহিকতায় আগামী দিনে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোকেও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনার অঙ্গীকার করেন তিনি।

গণ-আন্দোলনে হতাহতদের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এক বা দুই চোখ হারিয়েছেন, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন। তিনি বলেন, যেভাবে দেড় হাজারের মতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেটিকে গণহত্যা বলা যায়।

তারেক রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের সাহসিকতার কারণেই ফ্যাসিবাদী শক্তি শুধু ক্ষমতা থেকেই নয়, দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের নয়; এটি অধিকারবঞ্চিত মানুষের গণ-আন্দোলন।

আহতদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুইভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। প্রথমত, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয়ত, আহতদের যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, হতাহতদের প্রতি রাষ্ট্রের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে এবং জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি পর্যায়ক্রমে সেই দায়িত্ব পালন করবে।

নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে শোকের রাজনীতি চলতেই থাকবে। তবে গণতন্ত্রকামী মানুষের হাত ধরেই আগামী বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাঁথা রচিত হবে।

এমবি এইচআর