মদপানে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের সিদ্ধান্ত

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ এলাকায় বিষাক্ত মদপানে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসন চারজনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Oct 21, 2025 - 11:57
 0  3
মদপানে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের সিদ্ধান্ত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ এলাকায় বিষাক্ত মদপানে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসন চারজনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহগুলো উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের আলী।

তিনি জানান, এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ইতোমধ্যে দুইজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বাকি চারজনের মরদেহও ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করা হবে।

যাদের মরদেহ উত্তোলন করা হবে তারা হলেন—পিরোজখালী গ্রামের লাল্টু হোসেন, খেজুরা গ্রামের সেলিম (৪৫), নফরকান্দি গ্রামের খেদের আলী (৫০) এবং শংকরচন্দ্র গ্রামের শহিদুল মোল্লা।

গত ৯ অক্টোবর রাতে ডিঙ্গেদহ বাজার এলাকায় কয়েকজন মিলে বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করেন। এরপর সবাই অসুস্থ হয়ে পড়লে একে একে ছয়জনের মৃত্যু হয়। রোববার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

তদন্তে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে চারজনকে গোপনে দাফন করা হয়েছিল পরিবারের সদস্যদের দ্বারা। আদালতের নির্দেশে ওই চারজনের মরদেহ মঙ্গলবার উত্তোলন করা হবে।

এদিকে, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিষাক্ত স্পিরিটের যোগসূত্র পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে গিয়ে মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ১১৭ বোতল মেয়াদোত্তীর্ণ স্পিরিট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ফারুক আহমেদ ওরফে ‘এ্যালকো ফারুক’ (৪০) ও তার সহযোগী জুমাত আলী (৪৬)। জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক স্বীকার করেছেন, তিনি লাইসেন্স ছাড়া হোমিও চিকিৎসার নামে মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যালকোহল বিক্রি করতেন এবং তা চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ দিতেন।

পুলিশের ধারণা, ফারুকের সরবরাহ করা ওই বিষাক্ত স্পিরিট পান করেই ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অপরাধ দমনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এমবি/টিআই