ফ্লাইওভার থেকে ১৪০ নাট-বোল্ট চুরি, কাঠামোগত ঝুঁকিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক
চট্টগ্রাম নগরের আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার থেকে খুলে নেওয়া হয়েছে অন্তত ১৪০টি নাট-বোল্ট ও ৫৩টি ওয়াশার। সিটি করপোরেশনের তদন্তে জানা গেছে, মাদকাসক্তদের একটি চক্র এসব খুলে নিয়েছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রাম নগরের আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার থেকে খুলে নেওয়া হয়েছে অন্তত ১৪০টি নাট-বোল্ট ও ৫৩টি ওয়াশার। সিটি করপোরেশনের তদন্তে জানা গেছে, মাদকাসক্তদের একটি চক্র এসব খুলে নিয়েছে। এতে নগরের অন্যতম ব্যস্ত এই ফ্লাইওভারটি এখন মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।
প্রতিদিন প্রায় ৮০ হাজার যানবাহন চলাচল করে সাতশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ফ্লাইওভার দিয়ে। সাত বছর আগে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ফ্লাইওভারটি নির্মাণের পর এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে। কিন্তু সাত বছরে একবারও নিয়মিত পরিদর্শন বা কাঠামোগত নিরীক্ষা করা হয়নি।
গত ৩ আগস্ট গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে দেখা যায়, মুরাদপুর থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত ফ্লাইওভারের ২ নম্বর গেট এলাকার বায়েজিদমুখী র্যাম্পে স্টিল গার্ডারের নাট-বোল্ট উধাও। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘দুষ্কৃতকারী বা মাদকাসক্তদের দ্বারা নাট-বোল্ট চুরির ঘটনাটি সত্য প্রমাণিত হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নাট-বোল্টগুলো দ্রুত পুনঃস্থাপন না করলে ফ্লাইওভারের কাঠামোগত স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণে আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন ক্রেন ও ম্যান-লিফট ব্যবহার এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি ১০ দফা সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ফ্লাইওভারের নিয়মিত তদারকি, নাট-বোল্ট চুরি রোধ, সিসিটিভি স্থাপন, কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া এবং মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া। পাশাপাশি প্রতিবছর অন্তত ২০ শতাংশ স্টিল গার্ডার পরীক্ষা ও পাঁচ বছরে পূর্ণ নিরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিফাতুল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে চুরি হওয়া নাট-বোল্ট নতুন করে স্থাপন করা হচ্ছে। ফ্লাইওভারে অননুমোদিত প্রবেশ রোধে কাঁটাতার বসানো হয়েছে।
পাঁচলাইশ থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, এলাকাটিতে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
২০১৪ সালে শুরু হয়ে ২০১৭ সালে উদ্বোধন হওয়া আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারটি এখন অবহেলা ও চুরির কারণে নতুন করে ঝুঁকিতে পড়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ফ্লাইওভারের নিচে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পও ধ্বংসের মুখে পড়েছে, হারিয়ে গেছে আলোকসজ্জা ও গাছপালা।
এমবি এইচআর

