চবি শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর, অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে!
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলা ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ইট দিয়ে ওই শিক্ষার্থীর মাথা থেতলে দেওয়ারও চেষ্টা করে। বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইটের রাহমানিয়া হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার চারুকলা ইনস্টিটিউটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলমাস মাহমুদ রাফিদ জানান, বিভাগের কিছু অভ্যন্তরীণ লেখালেখি নিয়ে মতবিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাদিউল আউয়াল সুজাত ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করতে উদ্যত হন। এছাড়া ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ ফাহিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদ মো. রিদওয়ান এবং আরিফসহ আরও কয়েকজন হামলায় অংশ নেন।
ঘটনার সময় আলমাসকে ইট, কাঠ ও কলা গাছের কাঁধি দিয়ে মারধর করা হয় বলে জানান তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেয়া হলে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র অফিসার ডা. শুভাশীষ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীর মাথায় প্রায় তিন ইঞ্চি গভীর জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়।
আলমাস অভিযোগ করেন, “চারুকলার কিছু লেখালেখি পারমিশন ছাড়া হয়েছিল। পরে সেগুলো মুছে দেওয়া হলে আমি গ্রুপে বিষয়টি বলি। তারা তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে টার্গেট করে।” তিনি আরও জানান, আগেও তাকে উদ্দেশ্য করে মিথ্যা অভিযোগে সংবাদ করানো হয়েছিল, যার বিষয়ে বিভাগীয় সেলে প্রমাণসহ ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সুজাত। তিনি দাবি করেন, “এ ধরনের কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। এটি চারুকলার অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আমরা শুধু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম।” একই বক্তব্য দেন সাইদ মো. রিদওয়ান। তার ভাষায়, “বিভাগীয় বিষয়ে আলমাসের সঙ্গে সিনিয়রদের বাগবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সংগঠনের কেউ সংগঠনের ব্যানারে যায়নি।”
অন্যদিকে ফাহিম দাবি করেন, আলমাসের নামে পূর্বে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে এবং এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, “গতকাল ওই সিনিয়রকে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্কের সময় আলমাস নিজেই ঝামেলা শুরু করে। পরে আমরা যারা উপস্থিত ছিলাম, তাদের সঙ্গে তার হাতাহাতি হয়।”
ঘটনা সম্পর্কে চবির সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন বলেন, “আমরা শুনেছি চারুকলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী আরেকজনকে মারধর করেছে। তবে এখনও কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
এমবি/এসআর

