শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ১৭ নভেম্বর
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আছাদুজ্জামান কামালের রায় ঘোষিত হবে আগামী ১৭ নভেম্বর। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আছাদুজ্জামান কামালের রায় ঘোষিত হবে আগামী ১৭ নভেম্বর। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এই মামলার অপর দুই আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। এদের মধ্যে মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলাটি দায়ের করা হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। ওই বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং সেদিনই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকেও মামলার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তদন্ত শেষে গত ১২ মে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা প্রসিকিউশন কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়।
গত ১২ অক্টোবর মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু হয় এবং ২৩ অক্টোবর শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষ শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে।
২০২৫ সালের ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন, যেখানে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়—
১. ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান,
২. আন্দোলনকারীদের নির্মূলের নির্দেশ,
৩. রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা,
৪. রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা,
৫. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ।
একই বছরের ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। মামলার তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক, আর সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বর্তমানে আটক অবস্থায় রয়েছেন এবং তিনি রাজসাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
এমবি এইচআর

