রাবিতে শিবিরের নবীনবরণে গোলাম আযমের বই বিতরণে তুমুল বিতর্ক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ইসলামী ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে দণ্ডপ্রাপ্ত মানবতাবিরোধী অপরাধী ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের লেখা ‘মনটাকে কাজে দিন’ বই উপহার দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

Nov 16, 2025 - 16:55
 0  3
রাবিতে শিবিরের নবীনবরণে গোলাম আযমের বই বিতরণে তুমুল বিতর্ক
ছবি, সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ইসলামী ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে দণ্ডপ্রাপ্ত মানবতাবিরোধী অপরাধী ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের লেখা ‘মনটাকে কাজে দিন’ বই উপহার দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শনিবার কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে বইটি তুলে দেওয়া হয়।

নবীন শিক্ষার্থীদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্বাধীনতাবিরোধী একজন ব্যক্তির লেখা বই উপহার দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তার মতে, ‘জুলাই ও একাত্তর—দুটি বাস্তবতাই আমাদের ধারণ করা উচিত; সেখানে যুদ্ধাপরাধীর লেখা বই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে দেওয়া উদ্বেগজনক।’

বামধারা সমর্থিত রাকসুর ভিপি প্রার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, নবীনবরণের নামে শিক্ষার্থীদের সমাগম ঘটিয়ে যুদ্ধাপরাধীকে আইডলাইজ করা দৃষ্টিকটূ ও প্রতারণাপূর্ণ। তার মতে, জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের আড়ালে শিবির একাত্তরের গণহত্যাকে সিমপ্যাথাইজ করার চেষ্টা করছে।

রাকসুর জিএস প্রার্থী ও রাবি ছাত্রদলের নেতা নাফিউল ইসলাম জীবনও বই উপহারের সমালোচনা করে বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির স্বীকৃত রাজাকারের বই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিলি করা স্বাধীনতার প্রতি অপমান।

রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফি বলেন, যুদ্ধাপরাধীর মতাদর্শ প্রচারের সুযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।

তবে শিবির এসব সমালোচনা মানতে নারাজ। সংগঠনের নেতারা বলেন, গোলাম আযমকে ‘মিথ্যা ফ্রেমিং’ করা হয়েছিল এবং শিক্ষার্থীদের তার চিন্তার গভীরতা জানতে দেওয়া প্রয়োজন। রাকসুর গবেষণা সম্পাদক ও শিবির নেতা নাজমুস সাকিব বলেন, সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে গোলাম আযমকে জানা দরকার।

একই মত প্রকাশ করেন শিবিরকর্মী ও রাকসু সহ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সায়েম। তিনি যুক্তি দেন, বইয়ের বিষয়বস্তুই মূল এবং এটি শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হতে সহায়তা করবে। হিটলার বা মুসোলিনির বই পড়ানো হলে প্রশ্ন ওঠে না, তাই গোলাম আযমের বই নিয়েও প্রশ্ন ওঠা উচিত নয় বলে দাবি করেন তিনি।

উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দীন, ডাকসু–চাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, ইব্রাহিম হোসেন রনি, শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এমবি এইচআর