খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি আবারও ফাঁস : পুনর্নিরীক্ষণে ফেল থেকে জিপিএ–৫

পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে যে ব্যাপক গাফিলতি ও দায়সারা মনোভাব আছে, তার সর্বশেষ প্রমাণ মিলেছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফলে। যশোর বোর্ডের একজন শিক্ষার্থী ফেল থেকে সরাসরি জিপিএ–৫ পেয়েছেন।

Nov 19, 2025 - 14:05
 0  2
খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি আবারও ফাঁস : পুনর্নিরীক্ষণে ফেল থেকে জিপিএ–৫
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে যে ব্যাপক গাফিলতি ও দায়সারা মনোভাব আছে, তার সর্বশেষ প্রমাণ মিলেছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফলে। যশোর বোর্ডের একজন শিক্ষার্থী ফেল থেকে সরাসরি জিপিএ–৫ পেয়েছেন। এর আগেও ২০২৩ ও ২০২৪ সালে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষাতেও তিন বোর্ডের ২০ শিক্ষার্থী ফেল থেকে জিপিএ–৫ পেয়েছিল পুনর্নিরীক্ষণে।

খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পরীক্ষক, নিরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষক—তিন ধাপের যাচাই–বাছাই থাকলেও পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল দেখাচ্ছে এই প্রক্রিয়া কতটা অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার মধ্যে চলছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান নিয়মে শুধুমাত্র নম্বর যোগ–বিয়োগ বা ওএমআর শিটে নম্বর ওঠানোর ভুল দেখা হয়; কিন্তু উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া হলে ভুলের মাত্রা আরও স্পষ্ট হতো।

সারা দেশে এইচএসসি খাতা চ্যালেঞ্জ করেছে ২ লাখ ২৬ হাজার শিক্ষার্থী। মোট আবেদন পড়েছে ৪ লাখ ২৮ হাজার খাতায়। পুনর্নিরীক্ষণে নতুন করে জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৫৫৫ শিক্ষার্থী এবং ফেল থেকে পাশ করেছেন ১ হাজার ৪৭৯ জন। সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন হয়েছে ঢাকা বোর্ডে—২ হাজার ৩৩১ জনের ফল বদলেছে; এর মধ্যে ২০১ জন নতুন জিপিএ–৫ এবং ৩০৮ জন ফেল থেকে পাশ।

যশোর বোর্ডের একজন শিক্ষার্থীর ফেল থেকে জিপিএ–৫ পাওয়া ঘটনাটি সবচেয়ে আলোচিত। তিনি আইসিটি বিষয়ে খাতা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। মূল ফলে বিষয়টিতে ফেল ছিলেন, কিন্তু পুনর্নিরীক্ষণে নম্বর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে তাকে জিপিএ–৫ পর্যন্ত নিয়ে যায়।

এ ছাড়া কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড—সবগুলোতেই শত শত শিক্ষার্থীর ফল বদলেছে পুনর্নিরীক্ষণে। অনেক বোর্ডেই ফেল থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক শ ছাড়িয়েছে।

ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, খাতা মূল্যায়নে দায়িত্বশীলতার অভাব শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত করে, তেমনি পুরো মূল্যায়ন ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের আস্থাকেও কমিয়ে দেয়। সে কারণে মূল্যায়নকারীদের প্রশিক্ষণ, তদারকি বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই পদ্ধতি আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

এমবি এইচআর