আমেরিকাকে সীমান্তবর্তী বন্দর উপহার দিতে চায় পাকিস্তান: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আরব সাগরে অবস্থিত বালুচিস্তানের বন্দর শহর পাসনিতে একটি নতুন বন্দর নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য আমেরিকার কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে, পাকিস্তান সরকার ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই খবরকে ‘আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নয়’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক: পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আরব সাগরে অবস্থিত বালুচিস্তানের বন্দর শহর পাসনিতে একটি নতুন বন্দর নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য আমেরিকার কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে, পাকিস্তান সরকার ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই খবরকে ‘আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নয়’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন।
যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের বেসামরিক উপদেষ্টারা মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে এই প্রস্তাবটি তুলে ধরেছেন। প্রস্তাবিত বন্দরটি চীনের তৈরি গোয়াদর বন্দরের থেকে প্রায় ৭০ মাইল এবং পাকিস্তান-ইরান সীমান্ত থেকে ১০০ মাইল দূরে অবস্থিত। এই বন্দরকেই তামা ও অ্যান্টিমনির (ব্যাটারি ও ক্ষেপণাস্ত্রের উপাদান) মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ পরিবহনের টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই প্রকল্পে রেললাইন স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ খনি অঞ্চল থেকে খনিজ পদার্থ বন্দরে আনা হবে। প্রস্তাবিত অর্থায়ন মডেলে যুক্ত মধ্যে থাকবে পাকিস্তান সরকার এবং মার্কিন-সমর্থিত উন্নয়ন বিভাগ।
যদিও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি গত মাসে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মুনিরের বৈঠকের আগেই কিছু মার্কিন কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর উপদেষ্টারা এমন কোনো প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেননি।
এদিকে, রোববার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাষ্ট্র-পরিচালিত পাকিস্তান টিভিকে জানিয়েছেন যে, আমেরিকাকে পাসনি বন্দরে প্রবেশাধিকারের জন্য পাকিস্তান কোনো প্রস্তাব দেয়নি। তিনি বলেন, ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনটিতে সরকারি বা সামরিক কোনো সংযুক্তির উল্লেখ নেই ।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সাথে কথোপকথনগুলো ছিল অনুসন্ধানী, কোনো অফিসিয়াল উদ্যোগ নয়। পাসনির নিরাপত্তা কোনো বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। সেনাপ্রধানের কোনো অফিসিয়াল উপদেষ্টা নেই। এই ধারণাগুলোকে সরাসরি তাঁর সাথে যুক্ত করা বিভ্রান্তিকর ও ভুল।’
তবে, তিনি স্বীকার করেন, ‘পাসনির অবস্থান বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে... তবে এই পর্যায়ে এটি কেবল একটি ধারণা, কোনো উদ্যোগ নয়।’
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, হোয়াইট হাউস এবং পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদন নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও আমেরিকা ইতিমধ্যে পাকিস্তানের খনিজ সম্পদ ব্যবহারের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। গত সেপ্টেম্বরে, মিসৌরি-ভিত্তিক ইউএস স্ট্র্যাটেজিক মেটালস পাকিস্তানের সামরিক প্রকৌশল শাখার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
এমবি এইচআর

