একজন ‘প্রধানমন্ত্রী’ ধর্ষণ করেছিলেন ভার্জিনিয়া জিউফ্রেকে: স্মৃতিকথায় দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে কিশোরী বয়সে নির্যাতনের শিকার হওয়া ভার্জিনিয়া জিউফ্রে তাঁর স্মৃতিকথা ‘Nobody’s Girl’-এ দাবি করেছেন, একজন অজ্ঞাতনামা ‘প্রধানমন্ত্রী’ তাঁকে নির্মমভাবে মারধর ও ধর্ষণ করেছিলেন।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে কিশোরী বয়সে নির্যাতনের শিকার হওয়া ভার্জিনিয়া জিউফ্রে তাঁর স্মৃতিকথা ‘Nobody’s Girl’-এ দাবি করেছেন, একজন অজ্ঞাতনামা ‘প্রধানমন্ত্রী’ তাঁকে নির্মমভাবে মারধর ও ধর্ষণ করেছিলেন। তিনি লিখেছেন, এই সময় ভয় পেয়েছিলেন যে “হয়তো যৌনদাসী হিসেবেই তাঁর মৃত্যু হতে পারে।”
প্রায় ছয় মাস আগে অস্ট্রেলিয়ায় জিউফ্রে আত্মহত্যা করেছিলেন। স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন, এপস্টেইন ও তাঁর চক্র তাঁকে নিয়মিতভাবে ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের কাছে পাঠাতেন, যেখানে অপমান, মারধর এবং শ্বাসরোধসহ নৃশংস নির্যাতনের শিকার হতে হতো।
মার্কিন সংস্করণে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি ‘সুপরিচিত প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে যুক্তরাজ্যের সংস্করণে ‘সাবেক মন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। বইয়ে তিনি বর্ণনা করেছেন, এপস্টেইনের ক্যারিবীয় দ্বীপে তাঁর সঙ্গে থাকা সময় ওই ব্যক্তি তাঁকে আগেকার যে কারও চেয়ে বেশি নৃশংসভাবে ধর্ষণ করেছিলেন। জিউফ্রের বয়স তখন ১৮ বছর।
জিউফ্রে উল্লেখ করেছেন, “তিনি বারবার আমার গলা টিপে ধরেছিলেন, যতক্ষণ না আমি জ্ঞান হারাই এবং আমাকে ভয় পেতে দেখে তিনি আনন্দ পেতেন। যখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে ভয়াবহভাবে আঘাত করতেন, তখন তিনি হাসতেন। আমি যখন তাঁকে থামতে মিনতি করতাম, তখন তিনি আরও উত্তেজিত হতেন।” পরে জিউফ্রে এপস্টেইনের কাছে অনুরোধ করেন যেন তাঁকে আর ওই ব্যক্তির কাছে না পাঠানো হয়।
মার্কিন কংগ্রেস ও যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এ ঘটনার প্রভাব পড়েছে। বই প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যের প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ওপর নজরদারি বৃদ্ধি পাবে। জিউফ্রে দাবি করেছেন, প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তিনি কিশোরী বয়সে তিনবার যৌন সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়েছিলেন, যেখানে একবারে উপস্থিত ছিলেন এপস্টেইন ও আরও আটজন তরুণী।
জিউফ্রে ও লেখক অ্যামি ওয়ালেস মিলে এই বইটি লিখেছেন। স্মৃতিকথায় তিনি বলেছেন, ২০০১ সালের মার্চে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল এবং ম্যাক্সওয়েল তাঁকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে দিনটি একটি ‘বিশেষ দিন’ হবে। সেই সময় প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বয়স ৪১ এবং জিউফ্রের বয়স ১৭ বছর।
এমবি এইচআর

