এরিকা কার্কের মন্তব্যে তোলপাড় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ (TPUSA)-এর এক অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে আমন্ত্রণ জানান প্রয়াত রক্ষণশীল পডকাস্টার চার্লি কার্কের স্ত্রী এরিকা কার্ক।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ (TPUSA)-এর এক অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে আমন্ত্রণ জানান প্রয়াত রক্ষণশীল পডকাস্টার চার্লি কার্কের স্ত্রী এরিকা কার্ক। ২৯ অক্টোবরের ওই অনুষ্ঠানে ঘটে এমন এক মুহূর্ত, যা এখন আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
নেভি রঙের স্যুটে স্বচ্ছন্দ জেডি ভ্যান্স এবং প্রয়াত স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত টি-শার্টে উজ্জ্বল এরিকা কার্কের আলিঙ্গনের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে মুহূর্তেই। কিন্তু সেটি ছিল শুধু বন্ধুত্বপূর্ণ আলিঙ্গন নয়—অনেকের চোখে সেটি ছিল কিছুটা বেশি ঘনিষ্ঠ, যা নিয়ে অনলাইন জগতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
চার্লি কার্কের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের ওরেম শহরে হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর এমন দৃশ্য প্রকাশ্যে আসায় রক্ষণশীল মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ২২ বছর বয়সী অভিযুক্ত টাইলার রবিনসন রাজনৈতিক প্ররোণামূলক কারণে হত্যার অভিযোগে বর্তমানে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
চার্লির মৃত্যুর পর স্ত্রী এরিকা কার্ক এখন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ-এর নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। আর তাঁর ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবিগুলো ঘিরে ছড়িয়ে পড়েছে নানা গুজব, এমনকি কেউ কেউ ২০২৮ সালের রিপাবলিকান নির্বাচনী জোট নিয়ে জল্পনাও শুরু করেছেন।
“চার্লিকে কেউই প্রতিস্থাপন করতে পারবে না, কিন্তু...”
প্রায় পাঁচ হাজার দর্শকের সামনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে আবেগঘন কিন্তু সংযত ভাষায় এরিকা বলেন,
“কেউই চার্লির জায়গা নিতে পারবে না, তবে আমি জেডির মধ্যে আমার স্বামীর কিছু সাদৃশ্য দেখি।”
এই এক বাক্যই যেন আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #ErikaAndJD হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করতে শুরু করে। রাজনৈতিক সমাবেশটি যেন রূপ নেয় কোনো রাজনৈতিক নাটকের নতুন মৌসুমে—অনেকে মজা করে একে বলছেন ‘হাউস অব কার্ডস: MAGA সংস্করণ!’
বিতর্কিত আলিঙ্গন এবং “চুলে হাত” বিতর্ক
এরিকা ও ভ্যান্সের আলিঙ্গনের ছবিগুলো যখন X (সাবেক টুইটার)-এ ছড়িয়ে পড়ে, তখন শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন এটি সহমর্মিতার প্রকাশ, আবার কেউ একে দেখছেন সীমা ছাড়ানো ঘনিষ্ঠতা হিসেবে।
এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন— “বিবাহিত একজন পুরুষের মাথায় এভাবে হাত বুলিয়ে দেওয়া মোটেই শোভন নয়।”
আরেকজন লেখেন— “এরিকা কার্ক সময় নষ্ট করেননি। চার্লি নিশ্চয়ই কষ্ট পেতেন এটা দেখে।”
সামাজিক মাধ্যমে এখন চলছে সেই আলিঙ্গনের প্রতিটি ফ্রেম বিশ্লেষণ—হাতের অবস্থান, চোখের দৃষ্টি, এমনকি চুলে হাত রাখার মুহূর্ত পর্যন্ত নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
সমালোচকরা বলছেন, জনসমক্ষে এমন আচরণ একজন উপ-রাষ্ট্রপতি ও একজন নবনিযুক্ত সংগঠনপ্রধানের মর্যাদার সঙ্গে যায় না। অন্যদিকে, কিছু সমর্থক একে কেবলই মানবিক সহমর্মিতা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
তবে যা-ই হোক, এরিকা কার্ক ও জেডি ভ্যান্সের এই মুহূর্ত এখন আমেরিকার নতুন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কেউ বলছেন এটি কেবল ভুল বোঝাবুঝি, আবার কেউ মনে করছেন—এটাই হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের আগামী রাজনৈতিক নাটকের নতুন অধ্যায়।
এমবি এইচআর

