ইরানে বিক্ষোভ ঠেকাতে ‘রেড লাইন’ টানলো বিপ্লবী গার্ড বাহিনী

জনসম্পত্তি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার অজুহাতে ইরানে চলমান বিক্ষোভের বিষয়ে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

Jan 10, 2026 - 20:18
 0  2
ইরানে বিক্ষোভ ঠেকাতে ‘রেড লাইন’ টানলো বিপ্লবী গার্ড বাহিনী
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

জনসম্পত্তি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার অজুহাতে ইরানে চলমান বিক্ষোভের বিষয়ে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। দুই সপ্তাহ ধরে চলা দেশব্যাপী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে শনিবার (১০ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেয় বাহিনীটি।

আইআরজিসি জানায়, ‘গত দুই রাত ধরে সন্ত্রাসীরা সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর ঘাঁটি দখলের চেষ্টা করছে। এ সময় কয়েকজন সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন এবং সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।’ এসব ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে বাহিনীটি জানায়, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব, রাষ্ট্র এবং জনসম্পত্তির নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে আইআরজিসি ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করছে। কেউ রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ক্ষতি করার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইআরজিসি দাবি করে, শত্রুদের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তারা ইরানের জনগণের পাশে থাকবে। চলমান পরিস্থিতিকে তারা ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেও উল্লেখ করে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী গত দুই রাতে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় কয়েকজন সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অধীনে থাকা নিয়মিত সেনাবাহিনীও ঘোষণা দিয়েছে, তারা জাতীয় স্বার্থ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং জনসম্পত্তি রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

আইআরজিসির এই ঘোষণার একদিন আগে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাবে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের অবমূল্যায়ন, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত দেশটির জনগণ। এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট ডাকলে সেখান থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং দিন দিন বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনে দেশটির স্বাভাবিক জীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীসহ প্রায় সব শহরে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।

মার্কিন সাময়িকী টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর ১৩ দিনে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ইরানে দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সরকারকে কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে আসছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘ইরানের সাহসী জনগণের পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।’

ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ইতোমধ্যে রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা এখন সরাসরি ধর্মীয় শাসনের অবসান দাবি করছেন। ইরানের সরকার অবশ্য অভিযোগ করেছে, এই বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদ রয়েছে।

এমবি এইচআর